সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় কয়েক ধাপে গৃহ ও ভূমিহীনদের সরকারের পক্ষ থেকে ঘর উপহার দেওয়া হয়েছে। তবে এর মধ্যে গাড়াদহ ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ায় উপহারের ১৪টি ঘরের সাতটিই ৮০ হাজার থেকে লাখ টাকা দরে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শাহজাদপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিসের দলিলে আছে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে দেওয়া দুশতক ভূমিসহ গাড়াদহ দক্ষিণপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৪ নম্বর ঘরের মালিক আব্দুস সালাম ও তার স্ত্রী সেলিনা বেগম। কিন্তু নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ওই ঘরটি ১ লাখ টাকায় ক্রয় করে বসবাস করছেন মোছা. সিরিনা বেগম ও তার পরিবার।
১০ নম্বর ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন বেল্লাল হোসেন ও তার স্ত্রী ছারা খাতুন। তবে বসবাস করছেন মোহাম্মদ আনু ও তার স্ত্রী সাবিনা বেগম। তারা ৮০ হাজার টাকা দিয়ে ঘরটি ক্রয় করেছেন বলে জানান।
৮ নম্বর ঘর পেয়েছেন আব্দুর রশিদ। তার ওই ঘরে নিয়মিত বসবাস করছেন জাহের ও তার পরিবার। এভাবে ৯, ১৩, ১৬ ও ১৭ নম্বর ঘরগুলোও বিক্রি করেছেন উপহার পাওয়া ব্যক্তিরা।
এসব ঘরে থাকা বসবাসকারীরা বলেন, ‘আমরা আবেদন করেও কোনো ঘর পাইনি। নিজেদের বাড়িঘর না থাকায় নিরূপায় হয়ে কাগজের মাধ্যমে সরকারি ঘর কিনেছি।’
১৪ নম্বর ঘরের বরাদ্দ পাওয়া আব্দুস সালামের স্ত্রী সেলিনা বেগম বলেন, ‘ঘর বিক্রি করছি ঠিক, কিন্তু টাকা নিয়েছে অন্যরা। আমরা অল্প কিছু পাইছি। বাকি টাকা নিয়েছেন ডিজিটাল ভিশন বিদ্যানিকেতন কেজি স্কুলের মালিক জুয়েল আহম্মেদ।’
তবে টাকা নেওয়ার বিষয় অস্বীকার করেছেন জুয়েল আহম্মেদ। তিনি বলেন, ‘একটি টাকাও নেইনি। তবে একটি ঘর বিক্রির সময় আমি উপস্থিত ছিলাম।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি বরাদ্দ দিয়েছেন শাহজাদপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)। তালিকা প্রনয়ণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। আমি শুধু তালিকা অনুয়ায়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছি। কাজেই এ বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারবেন। আমার কিছু বলার নাই।’
শাহজাদপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিয়াকত সালমানের দাবি, ঘর বরাদ্দে কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ সঠিক নয়।
তবে ঘর বিক্রির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জাগো নিউজকে জানিয়েছেন শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া আফরিন।
তিনি বলেন, তদন্তে উপহারের ঘর বিক্রির সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে প্রকৃত উপকারভোগীরা ঘর পেয়েছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এসজে/জিকেএস