দেশজুড়ে

‘স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিয়োগে ২২-২৩ লাখ টাকার দুর্নীতি হয়’

স্কুলের গভর্নিং বডির নির্বাচনে এমপি নির্বাচনের চেয়েও বেশি তোড়জোড় চলে উল্লেখ করে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন বলেছেন, বর্তমানে একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিয়োগে ২২ থেকে ২৩ লাখ টাকার দুর্নীতি হয়। স্কুলটিকে তারা একটি ব্যবসার জায়গা করে নিয়েছেন।

বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের কবি জসীম উদ্দীন হলে ফরিদপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে এসএসসি ও এইচএসসির মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে এসএসসির ২২১ জন এবং এইচএচসির ১০০ জন শিক্ষার্থীকে চলতি বছরের জেলা পরিষদ মেধাবৃত্তি প্রদান করা হয়।

সভার শুরুতে শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যা দিবস উপলক্ষে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন ও তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘২০১৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। তখন একটি স্কুলঘর তৈরির জন্য শিক্ষকরা, অভিভাবকরা বারবার ধরনা দিতেন। আজ প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেকটি হাইস্কুলে, প্রত্যেকটি প্রাইমারি স্কুলে চারতলা ভবন করে দিয়েছেন। এজন্য এখন শিক্ষক বা অভিভাবকেরা আর ভবনের জন্য আসেন না। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবরকমের সহযোগিতা করা হচ্ছে। তবে আমরা যতই চেষ্টা করি, যতই কাজ করে যাই, যতই ভবন বানাই না কেন; যদি শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি হয় তাহলে কোনোভাবেই শিক্ষার উন্নতি হতে পারে না।’

শিক্ষক নিয়োগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আজ একটি স্কুলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিতে ২২ থেকে ২৩ লাখ টাকাও লেনদেন হয়। মাঝেমধ্যেই দেখি স্কুল কমিটি নিওয়া লাখ লাখ টাকা খরচ করতেছে। গভর্নিং কমিটি নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে। মনে হচ্ছে চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, এমপি নির্বাচন নিয়েও এত দৌড়াদৌড়ি হয় না যত দৌড়াদৌড়ি গভর্নিং বডি নিয়ে হচ্ছে।’

নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘এটার পাশাপাশি দেখি নিয়োগ বাণিজ্য চলছে। স্কুলের সভাপতি হওয়ার পেছনে অনেক লোভ-লালসা থাকে। শিক্ষক নিয়োগ করে, পিয়ন নিয়োগ করে, স্কুলের জমিতে দোকান বানিয়ে, প্লট বানিয়ে অনেক রকমের ব্যবসা তৈরি করে স্কুলটিকে ঘিরে। আমরা ভবন করবো, মাঠ করবো, সব করবো কিন্তু শিক্ষক নিয়োগে যদি দুর্নীতি হয় তাহলে সব উন্নয়ন কিন্তু ব্যর্থ হবে।’

ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন, সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কামরুজ্জামান চৌধুরী, মেধাবী শিক্ষার্থী তারানা জাহান সন্ধি ও সাদিয়া আফরিন এ্যানি।

এসময় সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক অসীম কুমার সাহা, ভাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক শামীম তালুকদার, রুকসুর সাবেক ভিপি কাওসার আকন্দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এন কে বি নয়ন/এসআর/এএসএম