দেশজুড়ে

পার্বতীপুরে জমে উঠেছে সুগন্ধি ধানের হাট

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে জমে উঠেছে সুগন্ধি ধান কেনাবেচা। ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে উপজেলার পুরাতন বাজারের ধানের হাট। সপ্তাহে দুইদিন এই হাটে কমপক্ষে ১০ হাজার বস্তা সুগন্ধি ধান বেচাকেনা হয়ে থাকে।

পার্বতীপুরের পুরাতন বাজার হাটটি প্রতি সপ্তাহে শনি ও মঙ্গলবার নিয়মিত বসে। তবে এই দুইদিন হাটে ধান বেচাকেনা হয় না। ধান বিক্রির জন্য আলাদা ভাবে রোববার ও বুধবার হাট বসে। এই দুইদিন আবার ধান ছাড়া অন্য কোনো পণ্য বেচাকেনা হয় না।

সুগন্ধি এই ধানের হাটের প্রধান ক্রেতা হচ্ছে প্রাণ গ্রুপ, স্কয়ার, এসিআই, সিটি গ্রুপ, রুপচাঁদা, ইশান এগ্রো, ইরফান, ইফাদ ও নবাব অটোসহ অন্যান্য অটোরাইস মিল। এ কোম্পানিগুলো সুগন্ধি চাল প্যাকেটজাত করে দেশে ও বিদেশে বাজারজাত করে থাকে। হাটে আমদানি হওয়া ধান কিনে এখানকার ব্যবসায়ীরা ঢাকা, নওগাঁ, চট্টগ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার অটোরাইস মিলে পাঠান।

হাটের নিয়মিত ব্যবসায়ী মেসার্স বাদল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ও কাউন্সিলর মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পার্বতীপুরের পুরাতন বাজারে প্রতি সপ্তাহে শনি ও মঙ্গলবার নিয়মিত হাট বসে। তবে কৃষকদের সুবিধার্থে সপ্তাহের দুইদিন রোববার ও বুধবার এই হাটে জিরা ধান কেনাবেচার বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে পার্বতীপুর পৌরসভা। এতে করে পরিবেশ বজায় রাখা যায়। যানজট ছাড়াই ভারী যানবাহন হাটে প্রবেশ করতে পারে।

হাটের ইজারাদার রেজাউল ইসলাম রেজা বলেন, আগে কৃষকরা বিক্ষিপ্তভাবে জিরাসহ সুগন্ধি ধান বিক্রি করতো। এতে তারা এক সঙ্গে অনেক ক্রেতা ও উপযুক্ত মূল্য পেত না। কিন্তু নিয়মিত হাটের বাইরে অন্য দুইদিন ধান বিক্রির জন্য নির্ধারিত করায় চাষিরা যেমন ধানের দাম পাচ্ছেন, তেমনি ক্রেতারাও কোনো ঝামেলা ছাড়াই হাটে এসে স্বাচ্ছন্দ্যে ধান কিনতে করতে পারছেন।

হাটে জিরা ধান বিক্রি করতে এসেছেন উপজেলার রামপুর গ্রামের অহিদুল হক দুলাল। তিনি বলেন, জিরা ধান চাষ লাভজনক। তাই জিরা চাষ করি। এই হাটে জিরা ধানের পাইকার থাকায় দামও ভালো পাওয়া যায়।

পার্বতীপুর ধান আড়ত মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন বলেন, বর্তমানে প্রতি বস্তা জিরা (৭৫ কেজি) ৪ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত কেনাবেচা হচ্ছে। হাটে কৃষকরা ছাড়াও ফড়িয়া ব্যবসায়ী জিরা ধান বিক্রি করতে নিয়ে আসেন। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে সুগন্ধি ধান কেনাবেচা শুরু হয়েছে। চলবে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত। সপ্তাহে দুইদিন রোববার ও বুধবার হাটে প্রায় ১০ হাজার বস্তা জিরা ধান আমদানি হয়ে থাকে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮৮ হাজার ৫৮৫ হেক্টর জমিতে সুগন্ধি ধানের আবাদ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় ২ হাজার ৯৬২ হেক্টর জমিতে বেড়েছে সুগন্ধি ধানের আবাদ।

পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো রাকিবুজ্জামান বলেন, পার্বতীপুরে এই হাটের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কেবল সুগন্ধি ধান পাওয়া যায়, যার সিংহভাগ জিরা।

এমদাদুল হক মিলন/এমআরআর/এএসএম