বাংলাদেশের ঐতিহ্য বলতে গেলে শীতকালে খেজুর রসের কথা না বললেই নয়। বছরের এসময়টাতে ভোরের আলো ফোটার আগ মুহূর্ত এবং সন্ধ্যা নামতেই রস সংগ্রহে ছোটেন গাছিরা।
দেশের অন্য জায়গার মতো সিদ্ধিরগঞ্জে দেখা মিললো এমন চিত্রের। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ২ নম্বর ঢাকেশ্বরী ইব্রাহিম কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস পুকুরপাড় এলাকায় গাছিদের খেজুর রস সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। এসময় রস কিনতে এবং খেতে শত শত মানুষ ভিড় করেন ওই জায়গাটিতে।
কথা বলে জানা যায়, গত ৩০ বছর ধরে ওই এলাকার খেজুর গাছগুলো লিজ নেন মোশাররফ শেখ। তবে গত চার বছর ধরে অংশীদারি ব্যবসা করছেন তিনি। তার সহযোগী হিসেবে মো. সোহেল ও রুবেল হোসেন এখন কাজ করেন।
মোশাররফ শেখ জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের লিজে বেশি টাকা ব্যয় হয়েছে। ২০২০ সালের শীত মৌসুমে সর্বমোট ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। তখন ক্রেতাদের কাছে লিটারপ্রতি খেজুরের রস তারা ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি করেছিলেন। পরবর্তী বছর অর্থাৎ ২০২১ সালেও তুলনামূলক কম খরচে গাছ লিজ নেন তারা। ৫০ হাজার টাকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল তাদের খরচ। তখন লিটারপ্রতি রস বিক্রি করতেন ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। তবে এবার অর্থাৎ ২০২২ সালের মৌসুমে খরচ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লিটারপ্রতি ৮০ টাকা বাড়িয়েছেন তারা।
মোশাররফ শেখ বলেন, এবছর আমাদের খেজুর গাছের লিজ নিতেই ৭৪ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। ৩৪টি খেজুর গাছ থেকে রস নামাচ্ছি এবার। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রসের চাহিদা বাড়বে। এখন গড়ে ১৬ থেকে ২০ লিটার বিক্রি হয়। প্রতিলিটার খেজুরের রস ২০০ টাকা করে বিক্রি করছি।
রস কিনতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা জমেলা খাতুন বলেন, তাই শীত আসলেই এখান থেকে রস কিনি। সামনে আমাদের পারিবারিক অনুষ্ঠান আছে। তাই আগেভাগেই কিনে রাখলাম। তবে দামটা বেশি হয়ে গেছে। দাম আরেকটু কম হলে ভালো হতো।
আদমজী শিমুলপাড়ার বাসিন্দা আহসানুল হাবীব সোহাগ বলেন, শীত মানেই রসের মৌসুম। তাই বন্ধুদের নিয়ে রস খেতে চলে এলাম। আমার বাড়ি এই এলাকায় হওয়ায় উপকার হয়েছে।
আজিজুল হাকিম নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলেন, বাসার জন্য রস কিনতে এখানে এসেছি। এই রস দিয়ে তৈরি পিঠার স্বাদই অন্যরকম। প্রতিবছর আমি এখানে রস কিনতে আসি। এখানকার রস তুলনামূলক ভালো হয়ে থাকে।
রাশেদুল ইসলাম রাজু/এমআরআর/জিকেএস