দেশজুড়ে

নিয়োগ পরীক্ষার আগের রাতে অপহরণের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরে ভবানীগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগ পরীক্ষার আগের দিন রাতেই আকরাম হোসেন নামে এক কিশোরকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। পরদিন বিকেলে চট্টগ্রামের একটি রেল স্টেশন থেকে অচেতন অবস্থায় আকরামকে উদ্ধার করা হয়।

এতে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি আকরাম। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে আকরামের বাবা জহির উদ্দিন সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

থানা পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) জহির বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। বাদী জহির ভবানীগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অস্থায়ী নৈশপ্রহরী হিসেবে চাকরিরত। তিনি বিদ্যালয়ের পেছনেই পরিবার নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় থাকেন।

আকরামের পরিবার জানায়, ২৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে বের হয়ে রাতে আকরাম ঘরে ফেরেনি। রাতেই তার বাবা-মা সম্ভাব্য স্থানে খোঁজ নেন। কিন্তু কোথাও তাকে পায়নি। পরদিন ২৮ ডিসেম্বর সকাল ৮টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জানানো হয়, আকরাম অচেতন অবস্থায় একটি রেলস্টেশনে পড়ে আছে। সেখানে কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম থেকে এনে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে আকরাম ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আকরাম জানিয়েছে, ঘর থেকে বিদ্যালয় মাঠে গলে পেছন থেকে কে বা কারা তার নাকে রুমাল চেপে ধরে। এরপর সে আর কিছুই জানে না। পরে তাকে চট্টগ্রামে কয়েকজন লোক উদ্ধার করে পরিবারের মোবাইল নম্বর চায়। কল পেলে জহির ও তার ভাই চট্টগ্রাম গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

আকরামের বাবা জহির উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে চেতনানাশক স্প্রে মেশানো রুমাল নাকে চেপে ধরে আকরামকে অপহরণ করা হয়। পরদিন তার নিয়োগ পরীক্ষা ছিল। আকরাম যেন পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারে সেজন্য তাকে কৌশলে অপহরণ করা হয়েছে।

ভবানীগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দিন রাজু বলেন, পরীক্ষার আগমুহূর্তে আকরামের অপহরণের ঘটনাটি আমরা জানতে পেরেছি। পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু অপহরণ হওয়ার কারণে সে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান বলেন, উদ্ধার হওয়া ছেলে এখনো অসুস্থ। সে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। সুস্থ হলে তার সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাজল কায়েস/এফএ/জিকেএস