গরম পানি ঢেলে এক গৃহকর্মী শিশুর পা ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আবু তাহেরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরীর ধর্মপুর ভিক্টোরিয়া কলেজ ডিগ্রি শাখা সংলগ্ন পূর্ব দৌলতপুর এলাকার এসআরটি প্যালেসের বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত তাহমিনা তুহিনকে আটক করা হয়েছে।
শিশুটি জানায়, চার বছর ধরে অধ্যক্ষ আবু তাহেরের কুমিল্লার বাসায় এবং মেয়ে ফাহমিদা তিমুর ঢাকার বাসায় কাজ করে আসছিল সে। কাজে দেরি হলে তাহমিনা ও তার মেয়ে ফাহমিদা বেত দিয়ে শিশুটিকে মারধর করতেন। সোমবার গরম পানি ঢেলে পা ঝলসে দেন তাহমিনা। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুনরায় মারধরের পর গরম পানি ঢালতে চাইলে শিশুটি দোতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী ছাত্রী হোস্টেলে আশ্রয় নেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোস্টেলের এক মেয়ে জাগো নিউজকে বলেন, ‘মেয়েটি হঠাৎ আমাদের রুমে ঢুকে আশ্রয় চায়। খেয়াল করে দেখি তার পা ঝলসে যাওয়া। মুহূর্তের মধ্যে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে পুলিশে খবর দে। এ সময় তাহের স্যারের স্ত্রী মেয়েটিকে আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে স্থানীদের কারণে নিতে পারেননি। পরে পুলিশ এসে শিশুটিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করে।’
এ বিষয়ে ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আবু তাহের জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার স্ত্রীর মাধ্যমে যেটি জেনেছি তাকে মারধর করেননি। সে পাপোষে পা পিছলে পড়ে যায়। এ সময় পায়ে একটু গরম পানি পড়েছে। পাশের হোস্টেলের মেয়েরা বিষয়টিকে বড় করে ফেলেছে।’
এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমেদ সনজুর মোর্শেদ জাগো নিউজকে বলেন, মেয়েটির পা ঝলসে গেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অধ্যক্ষের স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত করে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাহিদ পাটোয়ারী/এসজে/জেআইএম