দেশজুড়ে

যশোরে শীতের দাপটে বিপর্যস্ত জনজীবন

যশোরে শীতের অব্যাহত দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। পৌষের শেষে শীতে জবুথবু যশোরবাসী। গত কয়েকদিন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখতে হয়েছে ঘড়িতে।

শনিবার (৭ জানুয়ারি) যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গায় ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

যশোরে গত তিন-চারদিন প্রচণ্ড কুয়াশা ও হিমেল হাওয়া বইছে । দুপুরে সূর্যের দেখা মিললেও রোদের তাপমাত্রা ছিল কম। তবে শনিবার দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। উত্তরী হাওয়ায় থরথর কর কাঁপছে প্রাণিকূল। বৃষ্টির মতো ঝিরঝির করে পড়ছে কুয়াশা। দুর্ঘটনা এড়াতে দিনেরবেলাও যানবাহন চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে।

যশোর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৬ সেলসিয়াস। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও সকাল থেকে উত্তরী বাতাস বইছে। সেইসঙ্গে কুয়াশা বাড়িয়ে দিয়েছে শীতের তীব্রতা। এতে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও নিম্নআয়ের মানুষ।

এদিকে, শুক্রবার রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, নওগাঁ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং এটি দেশের কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

যশোরের হঠাৎ হাড়কাঁপানো শীতে দুর্ভোগে পড়েছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। বেলা বাড়লেও ঘর থেকে বের হতে বেগ পেতে হচ্ছে তাদের। তীব্র শীতে কাহিল হয়ে পড়েছে জনজীবন।

শহরের ধর্মতলা এলাকার রিকশাচালক শিমুল হোসেন বলেন, শীতে রিকশা চালাতে গিয়ে হাত-পা জমে যাচ্ছে। ব্রেকও ঠিকমতো ধরা যাচ্ছে না, দুর্ঘটনার ভয় বাড়ছে।

খড়কি এলাকার রিকশাচালক নূর হোসেন বলেন, গত তিন-চারদিন যে পরিমাণ শীত পড়ছে; তাতে বাইরে রিকশা চালানো কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু রিকশা না চালালে ভাত জুটবে না; তাই বাধ্য হয়ে পথে নামতে হয়েছে।

শহরের বেজপাড়া এলাকার আবু সাঈদ বলেন, শৈত্যপ্রবাহের কারণে সকালে সন্তানকে স্কুলে পাঠানোর ক্ষেত্রেও ভাবতে হচ্ছে। তীব্র শীতে ঠান্ডা লেগে না আবার সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

এদিকে, শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির ফলে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। জ্বর, হাঁচি, কাশিসহ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। শীতকালীন রোগবালাই থেকে রক্ষা পেতে গরম পানি পান করাসহ গরম কাপড় ব্যবহারের জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা আবদুস সামাদ বলেন, শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। রোগীর চাপ থাকলেও হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

মিলন রহমান/এমআরআর/এএসএম