সিলেটে ফারহানা হক মিলি (২৪) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী নুর আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
শনিবার (৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় নগরের তেলিহাওর এলাকার একটি ভবনের নিজ কক্ষ থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা এ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতের বড় ভাই সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম শিপন জাগো নিউজকে বলেন, আমার বোন আত্মহত্যা করতে পারে না। সে একজন মেধাবী ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় ছিল। সিলেট জেলা পর্যায়ে ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নও হয়েছে।
তিনি বলেন, মিলির স্বামী নুর আলম বদমেজাজি ছিল। সে অনলাইনে জুয়া খেলত। টাকা হেরে গেলে সে আমার বোনের স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে দিত। কথায় কথায় তাকে মানসিক নির্যাতন করত। আমাদের বিশ্বাস, সে মিলিকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখেছে।
জানা গেছে, সাড়ে চার বছর আগে সুনামগঞ্জের জগ্ননাথপুরের সদর ইউনিয়নের মৃত সিরাজুল হকের মেয়ে ফারহানা হক মিলির সঙ্গে একই জেলার দিরাই উপজেলার কলিয়ারখাপন গ্রামের আসকর আলীর ছেলে নুর আলমের বিয়ে হয়। তারা বর্তমানে সিলেট নগরের তেলিহাওর এলাকার সিলভ্যালি টাওয়ারে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পুলিশ ও মিলির পারিবারিক সূত্র জানায়, তেলিহাওর এলাকার সিলভ্যালি টাওয়ারের তৃতীয় তলার এ-২ ইউনিটে মিলি ও মিলির বড় বোন রেহানা হক সুহেলি তাদের স্বামী নিয়ে ভাড়া থাকেন। শুক্রবার রাতে মিলি না খেয়েই তার শয়নকক্ষে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। তবে তার স্বামী একই বাসায় থাকলেও ঘুমান ভিন্ন কক্ষে।
শনিবার বেলা ১১টা পর্যন্তও মিলির কক্ষের দরজা লাগানো দেখে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করেও তার সাড়াশব্দ না পেয়ে একপর্যায়ে কক্ষের মূল দরজা ভেঙে মিলির মরদেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। এসময় পরিবারের সদস্যরা কোতোয়ালি থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এসময় পুলিশ মিলির স্বামী নুর আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়।
মিলির বড় বোন রেহানা হক সুহেলির দাবি, সাড়ে চার বছর আগে নুর আলমের সঙ্গে মিলির বিয়ে হয়। এরপর থেকে রেহানা ও মিলি তাদের স্বামী নিয়ে সিলভ্যালি ক্যাসলের ওই বাসায় ভাড়া থাকেন। কিন্তু মিলির স্বামী দৃশ্যমান কোনো চাকরি বা পেশায় জড়িত ছিলেন না। উল্টো অনলাইন জুয়া খেলে লাখ লাখ টাকা উড়িয়েছেন। এমনকী নিজের একটি ঘর বিক্রি করে ১৫ লাখ টাকা একদিনেই জুয়া খেলায় খুইয়েছেন নুর আলম। এসব বিষয় নিয়ে মিলি ও তার স্বামীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। অনেক সময় স্বামীর হাতে নির্যাতনের শিকার হতেন মিলি। এর আগেও স্বামীর হাতে নির্যাতিত হয়ে একসঙ্গে অনেকগুলো ঘুমের ওষুধ খেয়েছেন তিনি।
সুহেলি বলেন, মিলি আত্মহত্যা করলে তো তার পা এভাবে বিছানায় লেগে থাকার কথা নয়। পুলিশ সুষ্ঠু তদন্ত করলে আসল বিষয় বেরিয়ে আসবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমার বোন এভাবে আত্মহত্যা করতে পারে না।
এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সুদ্বীপ দাস বলেন, ওই গৃহবধূর স্বামীকে থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। নিহতের বাবার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ময়নাতদন্ত শেষে জানা যাবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা।
ছামির মাহমুদ/এমআরআর/জেআইএম