দেশজুড়ে

গোয়ালঘর থেকে গরু ডাকাতি, সকালে মিললো যুবকের হাত-পা বাঁধা মরদেহ

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় গোয়াল ঘর থেকে দুটি গরু লুটে নিয়েছে ডাকাত দল। ঘটনার পর মীর কাশেম (৩২) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১১ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের অফিসেরচর এলাকার সবজিক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মীর কাশেম (৩২) ওই এলাকার মৃত নিয়ামত আলীর ছেলে।

লুট হওয়া গরুগুলোর মালিক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘দিনগত রাত ৩টার দিকে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল আমার গোয়াল ঘরে থাকা সাতটি গরু নিয়ে যায়। মেয়ে টয়েলেটে যাওয়ার সময় দেখতে পায় গোয়ালঘর খালি। তার চিৎকারে বাড়িতে থাকা জামাতা ফারুকসহ পরিবারের সদস্যরা ছোটাছুটি করে। প্রধান সড়কে গিয়ে দেখতে পাই ডাকাতদল গরুগুলো গাড়ি তুলছে। এ সময় বাধা দিলে ডাকাত দল ফারুককে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়। লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় প্রাণে রক্ষা পায় ফারুক। পরে দুটি গরু নিয়ে তারা চলে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিহত মীর কাশেম আমার ভাতিজা। রাতে ঘটনার পর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সকালে স্থানীয়রা সবজিক্ষেতে তার হাত-পা-মুখ বাঁধা মরদেহ দেখতে পান। রাতে ডাকাতির সময় ফেলায় মীর কাশেকে তারা মের ফেলে। তার হাত-পা-মুখ বেঁধে ধানক্ষেতে ফেলে যান।’

মোহাম্মদ আলীর জামাতা ফারুক বলেন, ‘গরুগুলো গাড়িতে তোলার সময় দুজন ডাকাত আমাকে মারধর করে। আমাকেও বেঁধে রাখার চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে আমাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লেও প্রাণে রক্ষা পাই। পরে বড় সাইজের দুটি গরু নিয়ে ডাকাতদল সটকে পড়ে।’

মোহাম্মদ আলীর ছেলে তারেক ও মেয়ে শামীমা আকতারের অভিযোগ, ‘ডাকাতি চলাকালে ৯৯৯-এ কল করে পুলিশের সহায়তা চাইলেও আসতে দেরি করে। তবে থানা থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব মাত্র এক কিলোমিটার। দেরিতে আসার পরও পুলিশের এক কর্মকর্তা ৯৯৯-এ কল করায় বাড়ির সদস্যদের বকাঝকা করেন। সকাল ১০টায় থানায় যোগাযোগ করতে বলেই তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তবে তার নাম জানা যায়নি।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য জাফর আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘মীর কাশেম কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। বাড়ির টুকটাক কাজ করার পাশাপাশি রাত-বিরাতে রাস্তায় হাঁটাচলা ছিল তার নিত্য অভ্যাস। অপরিচিত লোকজন দেখলে চিল্লাচিল্লি করতো। ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাত দল গরু লুট করতে এলে দেখে ফেলেন তিনি। গভীর রাতে তাদের দেখে হয়তো চিৎকার দিতে চেয়েছিলেন। এজন্য ডাকাতরা তাকে হাত-পা-মুখ বেঁধে মারধর করে হত্যা করেছে।’

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, যে মারা গেছে তিনি মানসিক রোগী। গরু ডাকাতি হয়েছে রাতে, আর তার মরদেহ পাওয়া গেছে সকালে। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে।

রাতে ৯৯৯-এ কল পেয়ে ঘটনা স্থলে পুলিশ যাওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজনকে বকাঝকার বিষয়ে ওসি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজন গরু নিয়ে যাওয়া গাড়ির পেছন পেছন দৌড়ে থানায় আসে। তখন আমারাই পরে তাদের বলেছি থানায় কেন একটা কল দেওয়া হলো না? এরপর তারা বাড়ি চলে যায়। পরে আবার তারা ৯৯৯-এ কল দিলে ঘটনাস্থলে পরিদর্শক যান। তারা বকাঝকা করার প্রশ্নই আসে না। হয়তো এটা বলতে পারে- আগে যেহেতু থানায় কথা হয়েছে তাহলে আবার কেন ৯৯৯-এ কল দিতে হয়েছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) মাহফুজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, রামুতে গরু লুট ও এক যুবকের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জেনেছি। কীভাবে কী ঘটেছে তাও অনুসন্ধান করা হচ্ছে। ৯৯৯-এ কল দেওয়ায় বকাঝকা করার কথা যেহেতু উঠেছে তা খতিয়ে দেখা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সায়ীদ আলমগীর/এসজে/জেআইএম