কক্সবাজারের টেকনাফের পাহাড় থেকে অপহরণের শিকার চার কৃষকের মধ্যে তিনজন ফিরে এসেছেন। সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) মাঝরাতে তারা বাড়ি ফেরেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী আব্দুর রহমান।
তিনি জানান, প্রতিদিনের মতো গত ৭ জানুয়ারি তারা ভুট্টাক্ষেতে কাজ শেষ করে পাহাড়ের টং ঘরে বিশ্রাম করছিলেন। এসময় ১৫-২০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল অস্ত্রের মুখে তাদের অপহরণ করে পাহাড়ের ভেতর চোখ বেঁধে আস্তানায় নিয়ে যায়। সেখানে চোখ বেঁধে রেখে দিনরাত টাকার জন্য নির্যাতন করা হতো। অপহৃত চারজনের মধ্যে আব্দুস সালামের ওপর সবচেয়ে নির্যাতন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: টেকনাফের পাহাড় থেকে ৪ কৃষককে অপহরণ
আব্দুর রহমান দাবি করেন, তাদের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে জনপ্রতি পাঁচ লাখ টাকা চাওয়া হয়। তবে আব্দুস সালামের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা আদায় করার জন্য তাকে অপহরণকারীরা রেখে দিয়েছেন।
তিনি জানান, পুলিশ প্রথমদিন পাহাড়ে অভিযানে যাওয়ায় তাদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন করা হয়। তাছাড়া সালামের স্ত্রী হামিদা বেগম সাংবাদিকদের কাছে তথ্য দেওয়ায় তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়ান অপহরণকারীরা।
অপহৃত আব্দুর রহমান বলেন, অপহরণকারীদের কাছে দামি মোবাইলফোন ও ল্যাপটপ আছে। আমাদের উদ্ধারের বিষয়ে কারা কী করে সব তথ্য তারা মুহূর্তে জানতে পারে। প্রাণে বাঁচতে অপহরণকারী সদস্যদের পায়ে ধরে বুঝিয়ে তিনজনে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে তাদের কবল থেকে ফিরে এসেছি।
আরও পড়ুন: অবশেষে মুক্তিপণেই ফিরলেন টেকনাফ থেকে অপহৃত ৮ জন
ফিরে আসাদের মধ্যে একজন কিশোর। সে বললো, অপহরণকারীদের হাত থেকে মুক্ত হতে আমার পরিবার আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে ধারদেনা, স্বর্ণ ও বাড়ির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি করে টাকা জোগাড় করে তাদের দিয়েছে। ডাকাতদলের নির্যাতনে আমার হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম হয়েছে।
সে আরও বলে, ফিরে আসার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাংবাদিকদের কোনো তথ্য দিলে আমাদের ফের অপহরণ করে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দিয়েছে অপহরণকারীরা।
এর আগে গত ৭ জানুয়ারি রাতে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড লেচুয়াপ্রাং পাহাড়ের ভেতর থেকে আব্দুস সালাম (৪৮), আব্দুর রহমান (৪৫), আব্দুল হাকিম (৪২) ও এক কিশোরকে (১৫) অপহরণ করে নিয়ে যায় সশস্ত্র ডাকাতদল।
এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিম বলেন, চার কৃষকের মাঝে তিনজন অপহরণকারী ডাকাত দলের কবল থেকে ফিসে এসেছে। আমরা তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছি। অপরজনকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
ওসি বলেন, অপহৃতদের পরিবার থেকে এ পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি। তাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ দিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে রোহিঙ্গা মাঝি নিহত
অন্যদিকে, কক্সবাজার র্যাব-১৫ এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের অভিযানের কারণে অপহৃতদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। র্যাব-১৫ কক্সবাজারের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু সালাম চৌধুরী বলেন, চার কৃষক অপহরণের খবর জেনে মঙ্গলবার টেকনাফের হ্নীলা পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত তিনজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন র্যাব সদস্যরা।
তিনি আরও বলেন, অপহরণের পর ভুক্তভোগীদের পরিবারের কাছে ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ডাকাতরা। মুক্তিপণ না দিলে অপহৃতদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এরপরই অভিযানে যায় র্যাব-১৫।
সায়ীদ আলমগীর/এমআরআর/জিকেএস