দেশজুড়ে

ঘর আছে, চলাচলের রাস্তা নেই

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মেগচামী ইউনিয়নের কালিনগর গ্রামে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে চলাচলের রাস্তা নেই। প্রকল্পসংলগ্ন বিভিন্ন ফসলি জমির ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে উপকারভোগীদের। এতে নানা বাধা ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা।

উপজেলা প্রশাসন ও উপকারভোগী সূত্র সূত্র জানায়, সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় মধুখালী উপজেলার মেগচামী ইউনিয়নের কালিনগর গ্রামে ২৮ শতাংশ জমিতে ১৪টি পরিবারকে দুই কক্ষবিশিষ্ট আধাপাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়। ২০২১ সালের জুন আনুষ্ঠানিকভাবে এসব ঘর হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৬০ জন বসবাস করছেন।

আরও পড়ুন: উপহারের ঘর মাসের পর মাস তালাবদ্ধ, সামনে চরে গরু-ছাগল

আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ, পানি, শৌচাগার ও রান্নাঘরের সুবিধা রয়েছে। তবে আশ্রয়ণের ঘর থেকে মূল সড়কে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। ফলে এখানে বসবাসকারী মানুষ আশপাশের ও ফসলি জমির ওপর দিয়ে যাতায়াত করছেন। প্রায় দিনই সেসব জমির মালিকরা তাদের চলাচলে বাধা দেন ও গালমন্দ করেন। এতে চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন উপকারভোগীরা।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা নিত্য সরকার জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি সেলুনে কাজ করি। প্রতিদিন কাজে বের হতে হয়। অন্যের ফসলের জমির মধ্য দিয়ে আসা-যাওয়া করলে জমির মালিকরা গালাগালি করে। এতে আমাদের খুব সমস্যা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন: আশ্রয়ণের ঘর লাখ টাকায় বিক্রি!

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের চলাচলের জন্য রাস্তা দরকার। রাস্তার জন্য আমরা সাত মাস আগে উপজেলা প্রশাসন বরাবর লিখিত আবেদনও করেছি। কিন্তু এখনো আমাদের রাস্তা হলো না।’

আরেক বাসিন্দা প্রতিবন্ধী রফিক মোল্লা বলেন, ‘আমি একজন পঙ্গু মানুষ। ভ্যানে করে আমার চলাচল করতে হয়। অথচ ঘর থেকে বের হওয়ার রাস্তা নেই। এ অবস্থায় আমি কীভাবে ঘরে যাবো আর ঘর থেকে বের হবো? আমাদের দ্রুত রাস্তার ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক।’

আরও পড়ুন: আশ্রয়ণের ঘর ভাড়া-বিক্রি, কোনোটিতে ঝুলছে তালা

উপকারভোগী মোছা. পাতারি, জাহেদা, সালমা ও রহিমা বেগমও জানালেন ক্ষোভের কথা। তারা জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের ঘর উপহার দিয়েছেন। এতে আমরা খুব খুশি। তবে রাস্তাঘাট না থাকায় আমরা এখন জেলখানার মতো বসবাস করছি।’

এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পটির পশ্চিম পাশে সরকারি ১০ শতাংশ খাসজমি রয়েছে। পুরো রাস্তার জন্য আরও দুই শতাংশ জমি দরকার। জমির মালিক জমির যে বাজারমূল্য তার তুলনায় দ্বিগুণ মূল্য দাবি করছেন। আমরা শিগগির জমির মালিকের সঙ্গে কথা বলে রাস্তার ব্যবস্থা করে দেবো।’

এসআর/এএসএম