গাজীপুরে পুলিশের নির্যাতনে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যুর অভিযোগে বাসন থানার দুই এএসআইকে ক্লোজ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন বাসন থানার এএসআই মাহবুব ও এএসআই নুরুল ইসলাম।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (অপরাধ) আবু তোরাব মোহাম্মদ শামসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ঘটনা তদন্তে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. দেলোয়ার হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অনলাইনে জুয়া খেলার অভিযোগে গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানার ভোগড়া পেয়ারা বাগান এলাকা থেকে সুতা ব্যবসায়ী রবিউলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ শনিবার রবিউলকে গ্রেফতার করা হলেও মঙ্গলবার রাত বারোটা পর্যন্ত তাকে থানা থেকে ছাড়েনি পুলিশ। এক পর্যায়ে রাত দুইটার দিকে বাসন থানার পুলিশ নিহত রবিউলের স্ত্রী নুপুর বেগমকে জানায় তার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন।
পরে রাত তিনটার দিকে নিহতের স্ত্রী জানতে পারেন তার স্বামী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন।
বুধবার (১৮ জানুয়ারি) এই ঘটনা গাজীপুর পেয়ারা বাগান এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ওই এলাকার হাজার হাজার মানুষ ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এসে অবরোধ করে। একপর্যায়ে তারা ভোগড়া বাইপাস মোড়ে পুলিশের চারটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগ করে।
খবর পেয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ধাওয়া দিয়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীকে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে দুপুর ১২টার দিকে যান চলাচল শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্ত পুলিশের বিচার দাবি করেন।
তবে বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মালেক খসরু খান বলেন, অনলাইনে জুয়া খেলার অভিযোগে রবিউলকে আটক করা হয়েছিল। রাতেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। রাতে সে বাড়ি ফেরার পথে ভোগড়া বাইপাস সড়কে দুর্ঘটনায় আহত হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সে মারা যায়। রবিউল পুলিশের নির্যাতনে মারা যায়নি। পুলিশ তাকে নির্যাতন করেনি।
আমিনুল ইসলাম/এফএ/এএসএম