গাজীপুরে পুলিশ হেফাজতে সুতা ব্যবাসয়ী রবিউল ইসলামের মৃত্যুর অভিযোগে পুলিশের কাজে বাধা, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা করেছে বাসন থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে ওই থানার এসআই হানিফ মাহমুদ বাদী হয়ে মামলা দুটি করেন।
বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়েরকৃত একটি মামলায় বিএনপি ও জামায়াতের ১৪ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ওই এজাহারে অজ্ঞাত পরিচয়ের আরো ২০০-৩০০ জন বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করা হয়।
বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়েরকৃত মামলায় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বশির আহমেদ বাচ্চু, বাসন থানা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম মনির, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর সিরাজ, ১৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল মান্নান, বাসন থানা যুবদলের আহ্বায়ক শওকত বাবু, সদস্য সচিব নাহিদ চৌধুরী বাবু ও বাসন থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক লুৎফর রহমানসহ ১১ নেতাকর্মী।
এছাড়া এ মামলায় জামায়াতের তিন নেতাকেও আসামি করা হয়েছে। এরা হলেন- গাজীপুর মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মো. খাইরুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি আমীর হোসেন আলী ও ওমর ফারুক।
অপর একটি মামলা করা হয় পুলিশের কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করার অপরাধে। এ মামলায় চারজনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ২০০-৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ মামলার আসামিরা হলেন- রঞ্জু (৪০), সালাম (৪৫), হাজরা (৫০) ও আনিস (৪৫)। মামলায় চার আসামির বাবার নাম ও ঠিকানা অজ্ঞাত লেখা রয়েছে।
এ ব্যাপারে বাসন থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মনিরুল ইসলাম মনির জানান, এ ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তারা ভোগড়া পেয়ারা বাগান এলাকায় বসবাসকারী বৃহত্তর রংপুর এলাকার বাসিন্দা। এতে বিএনপির নেতাকর্মীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রারি করতে এ মামলা দিয়েছে। তিনি অবিলম্বে মামলা থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের নাম প্রত্যাহার করে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এদিকে নিহত সুতা ব্যবসায়ী রবিউল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় তার ছোট ভাই মো. মহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে বুধবার রাতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন বাসন থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ট্রাক ও অজ্ঞাতনামা চালককে আসামি করা হয়েছে।
অনলাইন জুয়া খেলা ও মাদক ব্যবসার অভিযোগে সুতা ব্যবসায়ী রবিউল ইসলামকে বাসা থেকে শনিবার (১৪ জানুয়ারি) তুলে নিয়ে যান বাসন থানার এএসআই মাহবুবুর রহমান। মঙ্গলবার মধ্যরাতে থানা থেকে পুলিশ রবিউলের স্ত্রী নূপুর বেগমকে জানায়, রবিউল ইসলাম সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।
এ ঘটনায় পুলিশের নির্যাতনে ওই ব্যবসায়ীর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে বুধবার সকালে এলাকাবাসী দুই মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় তারা ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর ও চারটি মোটরসাইকেল আগুনে পুড়িয়ে দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ধাওয়া দিয়ে রাবার বুলেট, টিয়ার সেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আমিনুল ইসলাম/এফএ/জেআইএম