আইন-আদালত

গোপালগঞ্জের চারজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী সাক্ষ্য ২ মার্চ

একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গোপালগঞ্জের নিজামুল হকসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের পঞ্চম ও ষষ্ঠ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষীর জবানবিন্দ গ্রহণের জন্য আগামী ২ মার্চ নতুন দিন ঠিক করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তবে এ মামলায় পাঁচ আসামির মধ্যে একজন মারা গেছেন। ফলে সাক্ষ্যগ্রহণ হবে চারজনের বিরুদ্ধে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম।

আরও পড়ুন: ময়মনসিংহের ১০ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য বুধবার

আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন ও প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন।

মামলার আসামিরা হলেন- গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার মোতাহার উদ্দিন সিকদার (৬৫), ইনায়েত হোসেন মিয়া (৬৫), নিজামুল হক মিয়া ওরফে লুৎফর রহমান ওরফে লুথু মোল্লা (৬৮)। তদন্তের স্বার্থে বাকি দুইজনের নাম প্রকাশ করা হয়নি। পাঁচ আসামির মধ্যে চারজন পলাতক, একজন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। এছাড়া এক আসামি মারা গেছেন। তবে তিনি কে সেটা চিহ্নিত করতে পারেননি আইনজীবীরা।

২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডিতে তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদন প্রস্তুত হওয়ার কথা জানান সংস্থার তৎকালীন প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা (বর্তমান প্রধান সসন্বয়ক) এম. সানাউল হক। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) মো. নুরুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। এটি তদন্ত সংস্থার ৭৭তম প্রতিবেদন।

আরও পড়ুন: আসামির পক্ষে সাক্ষ্য দিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা

এর আগে ২০১৮ সালের ১৬ নভেম্বর শুরু হওয়া তদন্ত শেষ হয় ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে একাত্তরে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, আটক, অপহরণ, নির্যাতন, হত্যা ও মরদেহ গুমসহ চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগ-১১৯৭১ সালের ২৮ জুন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগী রাজাকার সদস্য আব্দুল মান্নান মিয়ার নেতৃত্বে রাজাকার মো. ইনায়েত হোসেন মিয়া, নিজামুল হকসহ সশস্ত্র ১২-১৩ জন নৌকাযোগে সাবেক মহকুমা ও বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানীর ছোট বাহিরবাগ গ্রামের আউয়াল হক মিয়ার বাড়ির পাশের ঘাটে নামেন। নেমেই এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। তখন আওয়াল মিয়ার জামাতা মুক্তিযোদ্ধা মাসুমের খোঁজ করেন তারা। তাকে না পেয়ে আওয়াল মিয়া ও তার ছেলে সিরাজ মিয়াকে অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক আটক ও অপহরণ করে নৌকায় তুলে পাকিস্তানি আর্মিদের কাছে নিয়ে যান। পরে জামাতা মাসুমকে হাজির করার শর্তে আওয়াল মিয়াকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এছাড়া সিরাজ মিয়ার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগ আনা হয়।

আরও পড়ুন: আসামির মৃত্যু, মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আপিল অকার্যকর

অভিযোগ-২একাত্তরের ৩ জুলাই কাশিয়ানী থানার ওড়াকান্দি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আব্দুস ছালাম মিয়াকে অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক আটক ও অপহরণ করে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর সদস্যদের কাছে নেওয়া হয়। রাজাকার আব্দুল মান্নান মিয়া, ইনায়েত হোসেন, নিজামুল হকের সহায়তায় আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে আব্দুস ছালামকে হত্যা করে মরদেহ গুম করা হয়।

অভিযোগ-৩১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই রাজাকার আব্দুল মান্নান মিয়ার নেতৃত্বে রাজাকার ইনায়েত হোসেন মিয়া, নিজামুল হকের একটি সশস্ত্র দল গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানীর সিতারামপুর গ্রামে যান। সেখানে ৯টি বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেন তারা। ওই গ্রাম ও আশপাশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আব্দুল কাদের মোল্লা, মকবুল হোসেন, মো. রওশন আলী মোল্লা, আনোয়ার মীর ও আজাহার শেখকে ধরে নিয়ে যান। এরপর পাকিস্তানি আর্মিদের সহায়তায় রাজাকাররা কাদের মোল্লাকে বেয়নেট খুঁচিয়ে এবং মকবুল হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলাকেটে হত্যা করেন।

অভিযোগ-৪১৯৭১ সালের ২৫ নভেম্বর বেলা ১১টার দিকে রাজাকার আব্দুল মান্নান মিয়ার নেতৃত্বে এই রাজাকাররা ও পাকিস্তানি বাহিনীর সশস্ত্র দল কাশিয়ানীর রামদিয়া বাজারে প্রবেশ করে। সেখানে স্বাধীনতার পক্ষের লোকজনদের অন্তত ৫০-৬০টি দোকান লুটপাট করেন তারা। এপর সেগুলো আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন। পরে প্রিন্সিপাল আয়ুবুর রহমানের বাড়িতে লুটপাট করে অগ্নিসংযোগ করেন।

এফএইচ/কেএসআর/এএসএম