ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আদালত বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন আইনজীবীরা। ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের এ কর্মসূচি চলবে। এ কারণে মামলার শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন না আইনজীবীরা। এতে বেকায়দায় পড়েছেন বিচারপ্রার্থীরা। জামিন না পেয়ে হাজত বাস করছেন অনেক আসামি।
তবে আইনজীবীদের অনুপস্থিতিতেই চলছে আদালতের কার্যক্রম। বিচারপ্রার্থীরা নিজেরাই শুনানি করছেন। এসব শুনানিতে মামলা নিষ্পত্তির পাশাপাশি জামিনও পাচ্ছেন অনেকে।
বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-১ এ দুই মামলায় সাত আসামি জামিন পেয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-১ এ ৩৩টি মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল। এরমধ্যে দুটি মামলায় সাত আসামি জামিন পেয়েছেন।
২০২২ সালের ৪ আগস্ট স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়িসহ সাতজনকে আসামি করে মামলা করেছিলেন জুঁই আক্তার নামের এক নারী। তিনি জেলা শহরের কলেজপাড়ার বাসিন্দা। এ মামলায় স্বামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। শ্বশুর-শাশুড়িসহ বাকি ছয় আসামির বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়। এ ছয় আসামি আজ নেত্রকোনা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে এসে নিজেরাই জামিনের আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের জামিন দেন আদালত।
আরও পড়ুন: জামিন না পেয়ে ক্ষুব্ধ হাজতিরা, আত্মহত্যার হুমকি
অপর মামলাটি করা হয় গতবছরের ৫ সেপ্টেম্বর। মামলাটি ছিল যৌন হয়রানির। এ মামলায় দীর্ঘদিন দিন ধরে কারাগারে ছিলেন আসামি। তাকেও আজ জামিন দেন আদালত।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের প্রশাসনিক ও তথ্য কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুজন আসামি নিজেরাই তাদের জামিনের আবেদন করলে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। পরেরদিন বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে দুটি মামলা নিষ্পত্তি হয়। বৃহস্পতিবারও দুই মামলায় সাত আসামি জামিন পেয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘জামিন চাওয়া বিচারপ্রার্থীদের আইনগত অধিকার। যদি কোনো বিচারপ্রার্থী আইন বিষয়ে অবগত থাকেন, তিনি নিজেই জামিনের আবেদন করতে পারবেন। এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় হবে না।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ ফারুকের বিরুদ্ধে খারাপ আচরণের অভিযোগ তুলে আদালত বর্জন করে আসছেন আইনজীবীরা। গত ১ ডিসেম্বর আইনজীবীরা মামলা দাখিল করতে গেলে বিচারক মোহাম্মদ ফারুক মামলা না নিয়ে তাদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ আইনজীবীদের। এ ঘটনায় ২৬ ডিসেম্বর সভা করে ১ জানুয়ারি থেকে বিচারক ফারুকের আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন। এছাড়া বিচারকের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগে ৪ জানুয়ারি কর্মবিরতি পালন করেন আদালতের কর্মচারীরা।
এ অবস্থায় জেলা জজ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এবং আদালতের নাজির মোমিনুল ইসলামের অপসারণ চেয়ে ৫ জানুয়ারি থেকে পুরো আদালত বর্জনের লাগাতার কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন আইনজীবীরা। পরে দফায় দফায় ৭ কর্মদিবস আদালত বর্জনের কর্মসূচি পালন করেন আইনজীবীরা। সবশেষ ৮ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন তারা।
বিচারকের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও অশালীন স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২৪ আইনজীবীকে দু’দফায় তলব করেছেন উচ্চ আদালত।
আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসআর/জেআইএম