কোনো ধরনের দরপত্র ছাড়াই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (চসিক) কেনা হয়েছে মশার ওষুধ। যার দাম ৭৭ লাখ টাকার বেশি। পছন্দের ব্যক্তিকে কাজ দিতে পাঁচ লাখ টাকার কম মূল্যের কার্যাদেশ বানিয়ে ১৬ বারে এসব মশার ওষুধ কেনা হয়। অথচ সরকারি ক্রয় নীতিমালায় রয়েছে, পাঁচ লাখ টাকার পণ্য কিংবা সেবা কিনতে হলে উন্মুক্ত দরপত্র (ওটিএম) করার কথা। এই জায়গায় ঘটেছে এর ব্যত্যয়।
আরও পড়ুন: দুর্নীতিতে শীর্ষে দশটি দেশ
এসব মশার ওষুধ কেনা হয়েছে হালিশহর ঈদগাহ এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বেঙ্গল মার্ক ইন্টারন্যাশনালের কাছ থেকে। এই প্রতিষ্ঠানটির মালিক অরভিন সাকিব ইভান। তিনি আবার চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক।
আর এই ‘অনিয়মে’র সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টাইগারপাসে চসিকের অস্থায়ী কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে এর সত্যতা মেলে।
আরও পড়ুন: দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লড়াই
দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর সহকারী পরিচালক মো. এমরান হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি টিম এ অভিযান চালায়।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় ৭৭ লাখ ৩৭ হাজার ৩শ টাকার মশার ওষুধ কেনার বিষয়টি জানতে পারে দুদক টিম। এসব ওষুধ ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত কেনা হয়। ১৬টি কার্যাদেশের মাধ্যমে একই ঠিকাদারের কাছ থেকে কেনা হয় ওষুধ।
আরও পড়ুন: ২০২২ সালে ব্যবসায় সবচেয়ে বড় বাধা ছিল দুর্নীতি
এর ফলে উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া মশার ওষুধ কেনার মাধ্যমে পিপিআর-২০০৮ এর বিধি ৭৪(১) ও বিধি ৭৭ এর লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে জানায় দুদক।
দুদকের সহকারী পরিচালক মো. এমরান হোসেন বলেন, বেআইনিভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বেঙ্গল মার্ক ইন্টারন্যাশনালকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ১৬ বারে একই প্রতিষ্ঠান থেকেই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনা হয়েছে এসব মশার ওষুধ। প্রাথমিকভাবে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আমরা এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদন জমা দেবো। এরপর কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হবে পরবর্তী পদক্ষেপ।
ইকবাল হোসেন/জেডএইচ/জেআইএম