ক্যাম্পাস

শেকৃবিতে ‘সাদামাটাভাবে’ পালিত হলো কৃষিবিদ দিবস

১৩ ফেব্রুয়ারি কৃষিবিদ দিবস। ১৯৭৩ সালের এই দিনে কৃষিবিদদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা দেওয়ার ঘোষণা দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে ২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর ১৩ ফেব্রুয়ারি কৃষিবিদ দিবিস হিসেবে পালন করছে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনসহ সারাদেশের কৃষিবিদ, কৃষি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও দেশের সব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

কিন্তু এবারের দিবসের কর্মসূচি নিয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের সর্বপ্রাচীন কৃষিপ্রতিষ্ঠান শেকৃবিতেই ছিল না কৃষিবিদ দিবসের আমেজ। দিবস উপলক্ষে সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় প্রশাসনিক ভবনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হয়। এরপর আনন্দ র্যালির কথা থাকলেও মাত্র ৫০-৬০ শিক্ষক-শিক্ষার্থী নিয়ে র্যালি বের হয়, যেখানে শিক্ষার্থী ছিলেন মাত্র পাঁচ-ছয়জন। অথচ অনুষ্ঠান চলাকালীন ক্লাস ছিল, ছিল পরীক্ষাও। এমনকি অংশ নেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরাও।

দিবস উদযাপনে দেখা যায়, শিক্ষার্থী ছাড়াই কৃষিবিদ দিবস উদযাপন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, ছাত্র পরামর্শক, প্রক্টরসহ বিভাগীয় কয়েকজন শিক্ষক আর প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী।

শিক্ষার্থীদের মতামত, কৃষিবিদ দিবস এখন শুধু নিয়ম রক্ষার জন্যই করা হয়। দিবস পালন করতে হবে তাই করা। দিবস উপলক্ষে নেই কোনো উৎসব, নেই কোনো আমেজ।

কৃষিবিদ দিবসে এমন আয়োজন ও অংশগ্রহণের চিত্র হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হলো কৃষিবিদ তৈরির কারখানা, সেখানে যদি দিবসটি ভালোভাবে পালিত না হয়, তাহলে সেটি লজ্জাজনক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সামাজিক সংগঠনের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছাত্র পরামর্শ অফিস থেকে দিবসটি উৎযাপনের কথা জানানো হয়েছে। তবে ক্লাস-পরীক্ষা চালু থাকায় তারা অংশ নিতে পারেননি। একদিকে অনুষ্ঠান অন্যদিকে ক্লাস-পরীক্ষা রাখলে কিছুই করার নেই বলে প্রশ্ন ছুড়ে দেন তারা।

তারা আরও বলেন, আমাদের টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ক্লাস-পরীক্ষার এমনিতেই অনেক বেশি চাপ, এসব বিশেষ দিবসগুলোতে ক্লাস-পরীক্ষা চললে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারি না। তাছাড়া দিবস উপলক্ষে কোনো বাজেটও দেওয়া হয় না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন কিষাণ থিয়েটারের সভাপতি জায়েদ বিন হান্নান আল মল্লিক বলেন, আমরা শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে কৃষিবিদ দিবস জমকালোভাবে উৎযাপিত হবে এটাই চাই। কিন্তু আমরা জানতে পেরেছি সরকারি অনুদান কমে যাওয়ায় সেভাবে উৎযাপন করা হচ্ছে না। কৃষিবিদ দিবস আমাদের ঐতিহ্য, এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের নিজেদের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার জন্য প্রশাসন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করি।

ক্লাস-পরীক্ষা থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, আমরা পরবর্তীতে বিষয়গুলো মাথায় রাখবো, তাছাড়া কেএইবিতে (কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ) অনুষ্ঠান থাকায় সবাই ওইদিক নিয়ে ব্যস্ত।

তাসনিম আহমেদ তানিম/বিএ/এমএস