দেশজুড়ে

অটোচালককে হত্যার পর পকেটের ৬০০ টাকাও নিয়ে যান তারা

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় অটোরিকশা চালক মো. ইসরাফিল হত্যাকাণ্ডে দুই যুবক গ্রেফতার হয়েছেন। ওই চালককে হত্যার পর অটোরিকশা নিয়ে যান তারা। একইসঙ্গে তার পকেটে থাকা ৬০০ টাকাও হাতছাড়া করেননি। অটোরিকশা নিয়ে বিক্রিও করে দেন।

মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামান আশরাফ।

গ্রেফতাররা হলেন- উপজেলার চরলরেন্স ইউনিয়নের লরেন্স গ্রামের হোসেন আহম্মদের ছেলে রুবেল ও সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের কালিচর গ্রামের তোফায়েল আহমেদের ছেলে বেলাল।

পুলিশ সুপার বলেন, ১৯ জানুয়ারি সকালে রাস্তার পাশে ইসরাফিলের মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। ওই দিনই নিহতের বাবা আবুল বাশার বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে সদর উপজেলার টুমচর এলাকা থেকে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা ক্রেতা বেলালকে আটক করা হয়। তার তথ্যে রাতেই কমলনগরের চরলরেন্স এলাকা থেকে রুবেলকে আটক করা হয়। রুবেল হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। অটোরিকশা ছিনতাই করতেই রুবেল ও ইউসুফ ইসরাফিলকে হত্যার পর মরদেহ রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। তবে ইউসুফ পলাতক।

ঘটনা সম্পর্কে রুবেল জানান, ১৮ জানুয়ারি রাত ৭টার দিকে কমলনগরের চরলরেন্স বাজার থেকে চৌধুরীর বাজার যাওয়ার জন্য ইসরাফিলের অটোরিকশায় ওঠেন ইউসুফ। পথে গনি মিয়া ব্রিকফিল্ড এলাকা থেকে রুবেলকে রিকশায় তোলেন তিনি। চৌধুরীবাজার এলাকার পাকা রাস্তার মাথায় পৌঁছালে ইউসুফ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেবেন বলে রিকশা থেকে নামেন। রুবেলও রিকশা থেকে নেমে যান।

কিছু সময় পর পেছন থেকে রিকশায় বসে থাকা ইসরাফিলের মুখ চেপে ধরে ঘাড় মটকে দেন ইউসুফ। রুবেল তার দুহাত চেপে ধরেন। রাস্তায় নিয়ে শ্বাসরোধে মৃত্যু নিশ্চিতের পর ইসরাফিলের অটোরিকশা, মোবাইল ও পকেটে থাকা ৬০০ টাকা নিয়ে পালিয়ে যান তারা।

লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামান আশরাফ বলেন, শূন্য থেকে শুরু করে মামলার রহস্য উদঘাটনে শতভাগ সফল হয়েছি। একজন আসামি পলাতক। দ্রুত তাকেও গ্রেফতার করা হবে। গ্রেফতার রুবেল ও বেলালকে আদালতে পাঠানো হবে। জেনেশুনে ছিনতাই হওয়া ওই রিকশাটি কেনায় বেলালের বিরুদ্ধেও অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

কাজল কায়েস/এসজে/বিএ/এমএস