ঢাকাসহ সারাদেশের নগর এলাকাতেই অত্যন্ত সরু রাস্তার পাশেই ১০-১২ তলা বা ততোধিক উচ্চতার বহুতল ভবন নির্মাণ মানদণ্ড বা অগ্নিনিরাপত্তা ব্যতিরেকেই গড়ে উঠছে। এমন অবস্থায় অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুতল ভবনের সংজ্ঞায়ন সুস্পষ্ট করতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি অথরিটি অবিলম্বে গঠন করা প্রয়োজন বলে মনে করে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)।
সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে আইপিডি জানায়, পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টার মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের বর্ষপূর্তির সময়ই রোববার গুলশানে বহুতল আবাসিক ভবনের ভয়ংকর অগ্নিকাণ্ড ঘটলো। এ ঘটনায় আমাদের ভবনগুলোর অভ্যন্তরীণ অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা সীমাহীন দুর্বলতা ও নগর সংস্থাগুলোর সার্বিক পরিকল্পনা, প্রস্তুতি, নজরদারি ও আইনের প্রয়োগের দুর্বলতার বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমানে ঢাকাসহ সারাদেশের নগর এলাকায় সিঁড়ি, ফায়ার লিফট, ফায়ার ডোর ইত্যাদি অগ্নিনির্বাপক সিস্টেমের ব্যবস্থা না করেই বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। পরবর্তীসময়ে কোনো ধরনের অকুপেন্সি সনদ ছাড়াই এই ভবনগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি রাজধানীর এফআর টাওয়ার অগ্নিকাণ্ডের পর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্তের পরে বহুতল ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ভবন মালিক ও ডেভেলপারদের যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর বাস্তবায়ন সঠিকভাবে করা হয়েছিল কি না সেটাও নিশ্চিত করা যায়নি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঢাকাসহ সারাদেশের নগর এলাকাতেই অত্যন্ত সরু রাস্তার পাশেই ১০-১২ তলা বা ততোধিক উচ্চতার বহুতল ভবন নির্মাণ মানদণ্ড বা অগ্নিনিরাপত্তা ব্যতিরেকেই গড়ে উঠছে।
এমন বাস্তবতায় আইপিডি মনে করে, মানুষের জীবনকে প্রাধান্য দিয়ে বহুতল ভবনসহ নগরে অগ্নি ও দুর্যোগজনিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডেভেলপার ও ভবন মালিকদের দায়বদ্ধতায় নিয়ে আনার পাশাপাশি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সব নগর সংস্থাগুলো জবাবদিহিতায় আনা প্রয়োজন। পাশাপাশি বহুতল ভবনের সংজ্ঞায়নে অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত ফায়ার সার্ভিসের আইনকে প্রাধান্য দিয়ে ইমারত ও নির্মাণ সংক্রান্ত বিধিমালাগুলোর প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা দরকার।
এমএমএ/আরএডি/এএসএম