দেশজুড়ে

১০ টাকায় মিলছে বঙ্কিম-রবীন্দ্রনাথের বই

টাঙ্গাইলে ১০ টাকায় বই বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন ও যুবদের জন্য ফাউন্ডেশন। সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে শহরের নিরালা মোড়ে অবস্থিত শহীদ মিনার চত্বরে এ কার্যক্রম শুরু করেছে সংগঠনটি। এরই মধ্যে ১০ টাকায় বই কিনেছেন শতাধিক শিক্ষার্থী। এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কবি, সাহিত্যিকসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

শিক্ষার্থীদের বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ করতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

এ আয়োজনে স্থান পেয়েছে বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথ, শরৎসহ বিখ্যাত লেখকদের বই, যা মাত্র ১০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষের কবিতা, দুই বোন, সেজুতি, চতুরঙ্গ, মালঞ্চ; শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেবদাস, চন্দ্রনাথ; বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কপালকুণ্ডলা; জীবনানন্দ দাশের রূপসী বাংলা; জাহানারা ইমামের জীবনমৃত্যু; আল মাহমুদের প্রেমপত্র পল্লবে, গল্প, উপন্যাস ও কবিতার বই ছাড়াও বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বিভিন্ন বই তাদের কাছে পাওয়া যাচ্ছে।

মাত্র ১০ টাকায় পছন্দের বই কিনতে পেরে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থী সাইমা বলেন, ১০০ টাকার বই মাত্র ১০ টাকায় কিনতে পেরেছি। আমাদের জন্য এমন আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়।

শিক্ষার্থী আহনাফ জানায়, বই কিনে খুব ভালো লাগছে। এত কম দামে ভালো বই পাবো চিন্তাও করিনি।

‘১০ টাকায় বই’ কর্মসূচির উদ্যোক্তা মুঈদ হাসান তড়িৎ বলেন, শহরের পাঠাগারে শিক্ষার্থীদের পদচারণা কম। তারা এখন ইন্টারনেটে আসক্ত। শিক্ষার্থীদের মাঝে বই পড়ার অনুপ্রেরণা জোগাতে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। নিজ খরচে প্রায় ৯ হাজার টাকায় দেড় শতাধিক বই এনেছি। ১০০-১২০ টাকার বই আমরা নামমাত্র মূল্যে মাত্র ১০ টাকায় বিক্রি করছি। শিক্ষার্থীরা বই পড়ায় আগ্রহী হলেই আমাদের উদ্যোগ স্বার্থক।

তিনি আরও বলেন, অন্তত মাসে একবার আমরা ১০ টাকায় বই বিক্রি করবো। এবার শতাধিক বই থাকলেও আগামীতে বইয়ের সংখ্যা বাড়বে। বিত্তবানদের হস্তক্ষেপ আর সহযোগিতা পেলে এই উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে করতে পারবো।

এ বিষয়ে কবি তালহা মাহমুদ জানান, ১০ টাকায় বই বিক্রির উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসনীয়। উদ্যোক্তারা নিজেরাই পরিবারের ওপর নির্ভরশীল আর বেকার। এরপরও তাদের এই মহৎ উদ্যোগে আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি। শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের এমন সমাজ পরিবর্তনের উদ্যোগে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

আরিফ উর রহমান টগর/এফএ/এএসএম