ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বানা ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের আহম্মদ মোল্যা (৫৩) একজন গরিব দিনমজুর। প্রতিবন্ধী কার্ড পেলেও কপালে জোটেনি প্রতিবন্ধী ভাতা। বছর খানেক ধরে প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার জন্য ঘুরছেন মেম্বার-চেয়ারম্যানের দ্বারে দ্বারে। ভাতার বদলে পেয়েছেন কেবলই অবহেলা আর আশ্বাস। উপায়ান্তর না পেয়ে এক পায়ে ভর করে এবার ছুটছেন সরকারি অফিসে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বানা ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের চার নম্বর ওয়ার্ডের মৃত মোসলেম মোল্যার ছেলে আহম্মদ মোল্যা। স্ত্রী, দুই মেয়ে আর দুই ছেলে নিয়ে অভাবের সংসার তার। জমি-জমা নেই। এক সময় অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করে কোনোমতে সংসার চালাতেন। বছর তিনেক আগে পায়ে ঘাঁ থেকে চিকিৎসার অভাবে গ্যাংগ্রিন সৃষ্টি হয়। এতে তার ডান পা কাটা পড়ে। সেই থেকে তার প্রতিবন্ধী জীবন শুরু। এক পা হারিয়ে আর বয়সের কারণে করতে পারেন না কোনো কাজকর্ম।
বড় ছেলে খায়রুল মোল্যা অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করে যা পান তাই দিয়েই খেয়ে না খেয়ে চলছে ৬ সদস্যের সংসার।
নিদারুণ কষ্ট নিয়ে আহম্মদ মোল্যা জাগো নিউজকে বলেন, বাপ-দাদার ভিটে ছাড়া জমি-জমা কিছুই নেই। দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালালেও এক পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে। কোনো কাজকর্ম করতে পারি না। ভিক্ষা করাও সম্ভব নয়। পরিবার নিয়ে বেশ কষ্টে খেয়ে না খেয়ে চলছে দিনরাত। একটি ভাতা হলেও যা পেতাম তা দিয়ে অন্তত চাল-ডাল, ওষুধ খেয়ে বেঁচে থাকতে পারতাম।
তিনি আরও বলেন, অনেক ঘোরার পর প্রতিবন্ধী কার্ড পেয়েছি। কিন্তু কপালে জোটেনি ভাতা। মেম্বার-চেয়ারম্যানদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে জুটেছে কেবল তাদের অবহেলা আর আশ্বাস। তাই তিনি এবার ছুটছেন সরকারি অফিসে কর্মকর্তাদের কাছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইকু শেখ জাগো নিউজকে বলেন, আসলে তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে নিদারুণ কষ্টে আছেন। বাস্তবে তিনি ভাতা পাওয়ার যোগ্য। আমি জানতে পেরে তাকে পরামর্শ দিয়েছি অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করতে। সাধ্যমতো তাকে সহযোগিতা করারও চেষ্টা করছি। তার ভাতাটি চালু হলে বেশ উপকৃত হবেন।
এ ব্যাপারে বানা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) মো. ফিরোজ মিয়ার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে তার স্ত্রী ফোন রিসিভ করে বলেন, তিনি মাঠে কাজ করতে গেছেন।
বানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হারুন অর রশিদ শরীফ এ বিষয়ে জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিবন্ধী ভাতায় চেয়ারম্যানদের কোনো কর্তৃত্ব নেই। শুধু সুপারিশ করা হয়। এটা ডাক্তার ও সমাজসেবা অফিসের বিষয়।
এ সময় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, আমি আমার গতীতে চলি। তিনি (অভিযোগকারী) না জেনে বুঝে বিভিন্ন জায়গায় বলে বেড়াচ্ছেন। সাংবাদিকদের কাছে আমার নামে বলে বেড়াচ্ছেন। আমি তাকে নোটিশ করে ডেকে এনে আইনের আওতায় আনবো। মামলা করবো, প্রয়োজনে বেঁধে জেলে দেবো।
এ ব্যাপারে আলফাডাঙ্গা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শেখ বজলুর রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, এখনও ওই ব্যক্তির কাগজপত্র হাতে পাইনি। কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর যাচাই-বাছাই করে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম জাহিদুল হাসান জাহিদ জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এ রকম কোনো ব্যক্তি আমার কাছে আসেননি। আমার দরজা অসহায় গরিব মানুষের জন্য সব সময় খোলা থাকে। তিনি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি দেখবো।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল হক জাগো নিউজকে বলেন, গত সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) আমার অফিসে এমন এক ব্যক্তি এসেছিলেন। তার সব কাগজপত্র নিয়ে আমার রেফারেন্স নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে নিয়মকানুন অনুযায়ী গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি দেখা হবে।
এফএ/এএসএম