কুমিল্লার বুড়িচংয়ে রাতের আঁধারে আগুন লাগিয়ে পীরযাত্রাপুর জোবেদা খাতুন কলেজটি পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) রাত পৌনে ১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম খান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাহিদা আক্তার ও বুড়িচং থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন: কোন আগুন কীভাবে নেভাতে হয়?
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত পৌনে ১টার দিকে হঠাৎ কলেজে কে বা কারা আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়। প্রথমে আগুন দেখে তা নেভাতে যান স্থানীয়রা। কিন্তু আগুনের তীব্রতা দেখে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে কলেজের শ্রেণিকক্ষ, অফিস, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞান ও কম্পিউটার কক্ষসহ ১০টি কক্ষের বেঞ্চ, টেবিল-চেয়ারসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: শরীরে আগুন লাগলে সঙ্গে সঙ্গে যা করবেন
কলেজ অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান ভূঁইয়া জানান, ২০১৫ সালে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ কলেজটি উদ্বোধন করেন। বর্তমানে তিন বিভাগে মোট ২৭৮ শিক্ষার্থী রয়েছে। কলেজটিতে শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও পিয়নসহ মোট স্টাফ রয়েছেন ২২ জন। পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন এক একর জমি দিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এটি প্রতিষ্ঠা করেন।
কলেজ অধ্যক্ষ বলেন, এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করেছিলাম, পরে আবেদন খারিজ করে দিলে আমরা আপিল করি। গত বছর আপিলের শুনানি হয়েছিল। হঠাৎ করে বৃহস্পতিবার রাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে কারা যেন আগুন ধরিয়ে দেয়। আমরা প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।
আরও পড়ুন: আগুন নেভানোর এই যন্ত্র যেভাবে ব্যবহার করবেন
বুড়িচং উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লিডার মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, রাত ১টার দিকে খবর পেয়ে আমাদের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে পুড়ে যায় কলেজের আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের বিষয়ে জানা যায়নি। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে পরে জানানো হবে।
বুড়িচং থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাহিদা আক্তার বলেন, কীভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়। বিষয়টি তদন্ত করছে ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশ। জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে।
জাহিদ পাটোয়ারী/জেডএইচ/