আইন-আদালত

অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৪ লাখ টাকা জমা, লভ্যাংশ খরচের আর্জি হাইকোর্টে

ময়মনসিংহের ত্রিশালে সড়কে জন্ম নেওয়া শিশুর ব্যাংক হিসাবে জমা মূলধনের ১৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকার লভ্যাংশ থেকে খরচের আর্জি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ২৯ মার্চ দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।

রোববার (১২ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ দিন ঠিক করেন।

আদালতে আজ রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ মাহাসিব হোসেন। আর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে ট্রাকচাপায় অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর মৃত্যুর আগ মুহূর্তে সড়কে জন্ম নেওয়া সেই শিশুকে তাৎক্ষণিক এককালীন পাঁচ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) এবং দুর্ঘটনাকবলিতদের জন্য গঠিত কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যানকে ১৫ দিনের মধ্যে এ অর্থ শিশুর অভিভাবককে দিতে বলা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় শিশুটিকে এককালীন পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এছাড়া ওই শিশুর জন্য করা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিআরটিএর পাঁচ লাখ টাকাসহ দেশের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া অর্থ মিলিয়ে মোট ১৩ লাখ ৯৫ হাজার জমা হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্টে জমা থাকা মূল টাকার অংশ থেকে খরচ না করে অতিরিক্ত লভ্যাংশ খরচ করার জন্য আর্জি জানানো হয়েছে।

শিশুটির আরও দুটি বোন ও তার দাদা-দারি রয়েছে। শিশুটির ব্যাংক হিসাবে থাকা টাকার মূলধন খরচ না করে প্রতি মাসে লভ্যাংশ থেকে খরচ করতে বলা হয়েছে। আজকের করা আর্জি শুনানি নিয়ে চূড়ান্ত আদেশের জন্য আগামী ২৯ মার্চ পরবর্তী দিন রেখেছেন আদালত।

আইনজীবী সৈয়দ মাহাসিব হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ব্যাংক হিসাবে মোট ১৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা রয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দেওয়া টাকা থেকে সঞ্চয়পত্র বা এফডিআরের মাধ্যমে (ইন্টারেস্ট) লভ্যাংশ খরচ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে হাইকোর্টে।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায় জাগো নিউজকে জানান, আজকে রিটকারী আইনজীবীর পক্ষ থেকে একটি আর্জি জানানো হয়। ব্যাংকে থাকা টাকার মূলধন খরচ না করে মেয়েটির ভবিষ্যৎ ভরণ-পোষণ ও লেখাপড়ার খরচে ব্যয় করার জন্য অ্যাকাউন্টে জমা রাখা টাকায় সঞ্চয়পত্র বা এফডিআরের মাধ্যমে (ইন্টারেস্ট) লভ্যাংশ খরচ করতে নির্দেশনা দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ২৯ মার্চ তারিখ রেখেছেন আদালত। এর মধ্যে আমাকে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সঙ্গে কথা বলার জন্যও নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এর আগে জানানো হয় যে, ময়মনসিংহের ত্রিশালে ট্রাকচাপায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর পেট ফেটে জন্ম নেওয়া শিশু ফাতিমার ক্ষতিপূরণের পাঁচ লাখ টাকা ‘রত্না আক্তার রহিমার নবজাতক শিশু ও দুই সন্তানের সহায়তা হিসাবে’ জমা হয়েছে। সোনালী ব্যাংক ত্রিশাল শাখায় এ টাকা জমা দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক উল্লেখ করেন, ট্রাস্টি বোর্ড, বিআরটিএ তহবিল থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মা-বাবার নবজাতক শিশুর অভিভাবককে ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্ত পাঁচ টাকার ক্রস চেক সোনালী ব্যাংক, ত্রিশাল শাখায় ‘রত্না আক্তার রহিমার নবজাতক শিশু ও অপর দুই সন্তানের সহায়তা হিসাব’-এ জমা আছে।

তিনি জানান, এ টাকার পাশাপাশি অন্য ব্যক্তিদের দেওয়া টাকাও ওই অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে। অ্যাকাউন্ট নম্বর ৩৩২৪১০১০২৮৭২৮, সোনালী ব্যাংক, ত্রিশাল শাখা। এই অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করছেন শিশুর অভিভাবক দাদা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ত্রিশাল। এখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। যৌক্তিক প্রয়োজনে শিশু ও তার পরিবারের কল্যাণের জন্য এই অ্যাকাউন্ট থেকে খরচ করা হবে।

এর আগে গত ২৭ অক্টোবর সড়কে জন্ম নেওয়া শিশুর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ক্ষতিপূরণের পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে কি না, তা জানাতে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নির্দেশ দেন হাইকোর্টের একই বেঞ্চ।

২০২২ সালের ১৬ জুলাই ত্রিশাল পৌর শহরের খান ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দুর্ঘটনায় মারা যান ত্রিশালের রাইমনি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (৪০), তার স্ত্রী রত্না বেগম (৩০) এবং মেয়ে সানজিদা খাতুন (৬)। মৃত্যুর আগে রত্না বেগম সড়কেই এক নবজাতকের জন্ম দেন। পরে নবজাতকের নাম রাখা হয় ‘ফাতেমা’।

জাহাঙ্গীর আলম সেদিন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে আলট্রাসনোগ্রাফি করাতে ত্রিশালে এসেছিলেন। সঙ্গে তাদের মেয়ে সানজিদাও ছিল।

ওই ঘটনায় জাহাঙ্গীরের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু ত্রিশাল থানায় একটি মামলা করেন। প্রথমে তিনি রত্নার রেখে যাওয়া নবজাতকের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। একটি বেসরকারি হাসপাতালে কয়েকদিন চিকিৎসা দেওয়ার পর গত বছরের ১৯ জুলাই শিশুটিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর ১০ দিন পর ২৯ জুলাই শিশুটির দাদা বাবুল ও অন্য স্বজনরা রাজধানীর আজিমপুরে শিশুদের পুনর্বাসনকেন্দ্র ছোটমণি নিবাসে রেখে যান মেয়েটিকে।

এফএইচ/এমকেআর/জেআইএম