ফেনী যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে দক্ষ প্রশিক্ষক ও জনবল সংকট আছে। মৎস্য প্রশিক্ষক না থাকায় চার বছর ধরে বন্ধ আছে কোর্সটি। বিপাকে পড়েছেন প্রশিক্ষণ নিতে আসা যুবকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফেনী যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে ছয়টি প্রাতিষ্ঠানিক কোর্স আছে। কম্পিউটার বেসিক অ্যান্ড আইসিটি অ্যাপ্লিকেশন, ফ্রিজ এয়ারকন্ডিশন, ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড হাউজ ওয়ারিং, মডার্ন অফিস ম্যানেজমেন্ট এবং আইসিটি এপ্লিকেশন, ইলেক্ট্রনিক্স। এগুলোতে ২৪ জন জনবলের মধ্যে ৯ জন নেই। এদের মধ্যে মডার্ন অফিস ম্যানেজমেন্টে একজন ইন্সট্রাক্টর, ফ্রিজ এয়ারকন্ডিশনে একজন সহকারী ইন্সট্রাক্টর, ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড হাউজ ওয়ারিংয়ে একজন সহকারী ইন্সট্রাক্টর ও এক মৎস্য প্রশিক্ষক নেই। প্রেষণে আছেন গাড়ি চালক, কম্পিউটার সহকারী ও অফিস সহায়ক।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কম্পিউটার কোর্সে একসঙ্গে ৭০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অন্য কোর্সে ৩০ জন করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তবে এ বছরের জন্য সরকারিভাবে ১০ জন করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তিন মাসের একটি ড্রেস ম্যাচিং কোর্স আছে। উপজেলা পর্যায়ে ৭, ১০ ও ১৪ দিনের প্রশিক্ষণ কোর্স আছে। প্রশিক্ষণ নেওয়া বেকার যুবকদের ঋণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ আছে। সর্বোচ্চ একজন প্রশিক্ষণার্থী ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ পায়।
ফেনী যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে গত ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ নেয়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যুব উন্নয়ন থেকে নেওয়া প্রশিক্ষণ কর্মক্ষেত্রে তাদের কোনো কাজে আসছে না। যার মূল কারণ হচ্ছে চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ প্রশিক্ষক দ্বারা যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ না পাওয়া। অনেক ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সার্টিফিকেটের জন্য ও আর্থিক সুবিধার জন্য প্রশিক্ষণ নেওয়াকেও দায়ী করছেন শিক্ষার্থীরা।
কম্পিউটার কোর্সের প্রশিক্ষণার্থী আলী হায়দার বলেন, ‘আমি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যা শিখেছি, সেটা শুধুমাত্র কম্পিউটার সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা। প্রতিযোগিতার এ যুগে এসে প্রাথমিক ধারণা নিয়ে কর্মক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ কম। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের দক্ষ প্রশিক্ষকের অভাব আছে। শুধুমাত্র একজন দক্ষ প্রশিক্ষকের অভাবে যুব উন্নয়ন থেকে কাঙ্ক্ষিত প্রশিক্ষণ পাওয়া যাচ্ছে না।
মৎস্য কোর্সে ভর্তিচ্ছু কয়েকজন যুবক বলেন, আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে মৎস্য চাষের ওপর প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য ফেনী যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে যাই। সেখানে গিয়ে খবর পাই প্রশিক্ষক নেই। তাই এ কোর্সে ভর্তি নেওয়া হবে না। এমন খবর পেয়ে আমরা হতাশ হয়ে ফিরে আসি। দেশে মৎস্য চাষ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই মৎস্য চাষের জন্য আমার আগ্রহী হই। কিন্তু সেই আগ্রহ আবার হতাশায় পরিণত হয়। ফেনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে মৎস্য প্রশিক্ষক নেই এটি মেনে নেওয়া কষ্টকর বিষয়।
ফেনী যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আবু জাফর জাগো নিউজকে বলেন, ফেনীতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর যেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। এখানে দলে দলে বেকার যুবকরা ব্যাপকভাবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। সেটি বাস্তবেও পরিণত হচ্ছে। এ জেলা অন্য এলাকার তুলনায় অনেকাংশে এগিয়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ প্রশিক্ষকের অভাব ও জনবল সংকট থাকলেও সাধ্য অনুযায়ী আন্তরিকতার সঙ্গ কাজ করে যাচ্ছি। ২০২২ সালে একজন মৎস্য প্রশিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি এখনো যোগ দেননি। সংকটের বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এসজে/জিকেএস