অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে চার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফিলিস্তিনের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বলছে, সেনা সদস্যরা অভিযানে চলাকালে ‘সন্ত্রাসী’ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ২ জনকে গুলি করে। তারা কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, নিহতদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে।
আরও পড়ুন> ইসরায়েলের বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় ‘বিরক্ত’ যুক্তরাষ্ট্র
জানা গেছে, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আরও ২০ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর।
বছরের শুরু থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান আরও বেড়েছে। এ পর্যন্ত ৮০ জনের মতো ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, ইসায়েলের অভিযানে। অপরদিকে, ইসরায়েলের তরফে বলা হচ্ছে, ফিলিস্তিনিদের হামলায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার অভিযান চলাকালে স্থানীয়রা ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ), শিন বেত সিকিউরিটি সার্ভিস এবং সীমান্ত পাহারায় থাকা পুলিশ সদস্যদের ওই শহরে প্রবেশ করতে দেখেন।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তারা দুটি গাড়িতে করে প্রবেশ করেন।
আহমেদ খালাফ নামে এক ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘দরজা খোলার পর, তাদের একজন নিদাল খাজেমের মাথায় গুলি করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ভাই ইউসুফ শ্রিমকেও তারা গুলি করে।’
এই ফিলিস্তিনি বলেন, ১৬ বছর বয়সী কিশোরকেও হত্যা করা হয়েছে। সে কোনো কিছুর সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। সে তার পরিবারের ব্যবসা চালাতো।
আরও পড়ুন>আল-আকসায় ভাঙন ধরাতে চায় ইসরায়েল
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় খাজেম ও ইউসুফের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা ইসলামিক জিহাদ ও হামাসের জেষ্ঠ্য নেতা ছিলেন। নিহত কিশোরের নাম হচ্ছে ওমর আওয়াদিন এবং আরেক ব্যক্তি হলেন ৩৭ বছর বয়সী লুয়ে আল-জুগাইর।
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের একজন মুখপাত্র চার ফিলিস্তিনিকে ‘নৃশংস হত্যা’ করা হয়েছে অভিযোগ তোলেন এবং এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
নাবিল আবু রুদেইন বলেছেন, ক্রমাগত ইসরায়েলি আগ্রাসন নিশ্চিত করে ইসরায়েল পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং সমঝোতা করতে মোটেও আগ্রহী নয়।
গাজার নিয়ন্ত্রণকারী হামাস এই হত্যাকাণ্ডকে ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে, ইসলামিক জিহাদ ইসরাইলকে ‘মূল্য দিতে’ হবে বলে অঙ্গীকার করেছে।
ইসলামের পবিত্র রমজান মাসের আগে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে মিশরীয় রিসোর্ট শারম আল-শেখ-এ ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ, মিশর, জর্ডান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আলোচনা করার কয়েকদিন আগে এ ঘটনা ঘটলো।
সূত্র: বিবিসি
এসএনআর/এমএস