ক্রেতাদের কাছ থেকে ‘নিয়মবহির্ভূত’ মোটা অংকের ভ্যাট আদায় করছে রাজধানীতে অবস্থিত ভারতীয় খাবারের প্রতিষ্ঠান দিল্লী দরবার। ভ্যাটের টাকার পরিমাণ কিংবা কত টাকা সরকারি কোষাগারে যাবে ক্রেতাকে এসব হিসেব না দিয়েই সরকারি টাকায় নিজেদের পকেট ভারি করছে রেস্টুরেন্টটি। ঘটনাটি দিল্লী দরবারের বসুন্ধরা ব্রাঞ্চের। বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের সি ব্লকের ২২ নম্বর রেস্টুরেন্টটিতে পাওয়া যায় প্রায় শতাধিক পদের ভারতীয় ও দেশীয় খাবার। তাদের খাবারের মেনুতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ধরে (ভ্যাট ইনক্লুসিভ) সব খাবারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ১০০ টাকায় ক্রেতাদের ১৫ টাকা নিয়ে নিজেদের পকেটেই ভরছে দিল্লী দরবার। ভ্যাটের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিসকাউন্ট দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।সম্প্রতি ভ্যাট গোয়েন্দাদের কাছে এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগে এক ক্রেতা জানান, তিনি সাড়ে ৩ শ’ টাকার খাবার খেয়ে বিল পরিশোধকালে তাকে দেখানো হয়নি তার ভ্যাটের টাকার পরিমাণ। ওই রেষ্টুরেন্টে ইসিআর মেশিন থাকা সত্ত্বেও ভ্যাট ফাঁকির উদ্দেশ্যে ক্রেতাকে তারা হাতে লেখা অবৈধ চালান সরবরাহ করছে।সানি বিন আলম নামে ওই ক্রেতা আরো অভিযোগ করেন, “ভারতীয় এই রেষ্টুরেন্টটি ভ্যাট সংক্রান্ত কোন ডকুমেন্ট দেয় না। তারা কোন বিলই দিতে চায় না। আমি ভ্যাট সংক্রান্ত কাগজপত্র চাইলে তারা হাতে লেখা এই বিলটি ধরিয়ে দেয়” জাকির হোসেন নামে অপর এক ক্রেতা অভিযোগ করেন, “২ হাজার ১০০ টাকার বিলে ভ্যাটের বিষয়টি জানতে চাইলে দিল্লী দরবার মোট বিল থেকে ১৫০ টাকা ডিসকাউন্ট করে দেয়।” হাতে লেখা অবৈধ চালানের পাশাপাশি রেজিস্ট্রেশন নম্বর দৃশ্যমান না করার অপরাধও করছে তারা। এ বিষয়ে ঢাকার সেগুনবাগিচা সার্কেলের রাজস্ব কর্মকর্তা শাফায়াত হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভ্যাট প্রদানের যেকোন প্রতিষ্ঠানকে ইসিআর চালান দিতেই হবে। চালানে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন নম্বর দৃশ্যমান থাকতে হবে।’ জাগো নিউজের অনুসন্ধানে জানা গেছে, দিল্লী দরবার ভুয়া ইসিআর চালান এবং রশিদ দেখিয়ে ভ্যাট কমিশনারেটে ইচ্ছেমত ভ্যাট জমা দিচ্ছে। এবিষয়ে রেস্টুরেন্টটির বসুন্ধরা ব্রাঞ্চের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। ধানমন্ডি-গুলশানের মতো অভিজাত এলাকায় ‘নামীদামী’ এই রেস্টুরেন্টটির একাধিক ব্রাঞ্চ রয়েছে। দিল্লী দরবারের পাশাপাশি ভ্যাট জমাদানে গড়িমসির অভিযোগ রয়েছে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড, সিপি ফ্রাইড চিকেন, ক্যাপ্রিকর্নস ওয়ার্ল্ডের মত মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।এআর/এমএমজেড/আরআইপি