নওগাঁয় সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি মণে আলুর দাম কমেছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা। বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় আলুর দাম কমেছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। অন্যদিকে, এভাবে চলতে থাকলে লোকসান গুনতে হবে বলে জানাচ্ছেন চাষিরা।
স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে নওগাঁর শাকসবজি ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চলে যায়। জেলার বদলগাছী উপজেলার কোলায় প্রতি শুক্র ও মঙ্গলবার বিশাল হাট বসে। মাঘ থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত এ হাটে প্রচুর পরিমাণে আলু নিয়ে আসেন কৃষকরা। প্রতি হাটে দেড় থেকে দুই হাজার মণ আল বেচাকেনা হয়।
শুক্রবার (১৭ মার্চ) কোলা হাটে গিয়ে দেখা যায়, বড় আকারের দেশি আলুর মণ ৮৯০ থেকে ৯৪০ টাকা, ছোট সাইজের মণ ৮২০ টাকা, কার্ডিনাল ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা, ডায়মন্ড ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং হল্যান্ড আলু ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে।
বদলগাছী উপজেলার দুধকুড়ি গ্রামের আলু চাষি আব্দুল মতিন বলেন, এ বছর ছয় বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেছি। এর মধ্যে এক বিঘাতে ভুটানি লাল আলু এবং পাঁচ বিঘা জমিতে দেশি জাতের আলু লাগিয়েছিলাম। বিঘাপ্রতি খচর হয়েছে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। যেখানে ফলন হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ মণ। তবে কার্ডিনাল বা হল্যান্ডের ফলন বেশি এবং খরচও বেশি হয়। বিঘাপ্রতি প্রায় ৮০ থেকে ৯০ মণ হয়ে থাকে। তবে দেশি আলুতে পরিশ্রম ও সময় কম লাগে। আরও দেশি আলুর দাম বেশি হওয়ায় টাকার অঙ্কে দেখা যায় প্রায় সমান।
একই গ্রামের আলু চাষি ফেরদৌস বলেন, একই হাটে সকালে এক দাম বেলা একটু বাড়লে আরেক দাম। সকালে যে দাম পাওয়া যায় বেলা বাড়লে মণে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কমে যায়। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে সবজি হাটে বেশি আসলে দাম কমিয়ে দেয়। আবার কম আসলে দাম কিছুটা পাওয়া যায়।
চাষি গোলাম মোস্তাকিম বলেন, ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে ৪০ কেজির জায়গায় ৪২ কেজিতে মণ বিক্রি করতে আমরা বাধ্য হই। আবার তারা সিন্ডিকেট করে দাম কম বেশি করে। সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর মণে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কমে গেছে। যেন দেখার কেউ নেই। হাটে ফসল বিক্রি করতে আসলে দাম পাই না। আমরা কৃষকরা সবসময়ই প্রতারিত হই।
বারফলা গ্রামের আলু চাষি বিজয় কুমার মণ্ডল বলেন, দুই বিঘা জমিতে ডায়মন্ড আলুর আবাদ করেছি। ব্যবসায়ীরা প্রথমে জমি থেকেই আলু কিনেছে। আমার আলুও কেনার কথা ছিল। কিন্তু এখন আর কিনছে না। ব্যবসায়ীরা বলছে, হিমাগারে আলু রাখার জায়গা নেই। এজন্য তারা দাম কমিয়ে দিয়েছে। বাড়িতেও তো এত আলু রাখার যাবে না। তাই আলু নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
কোলা হাটের আলু ব্যবসায়ী মাসুদ রানা বলেন, এ হাটে ১০ জন সবজি ব্যবসায়ী আছে। প্রতি হাটে প্রায় দুই হাজার মণ আলু বেচাকেনা হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দুই থেকে তিন ট্রাক আলু ঢাকা, ময়মনসিংহসহ কয়েকটি জেলায় সরবরাহ করা হয়।
দাম কমার বিষয়ে জানতে চাইলে আরেক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, হাটে আলুর আমদানি বেশি হওয়ায় দাম কমেছে। কিছুদিন আগেও দাম বেশি ছিল। কিছুদিন আগেও দেশি আলু বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ২০ টাকা মণ, ডায়মন্ড ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকা, কার্ডিনাল ৪৪০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং হল্যান্ড ৪৭০ থেকে ৪৯০ টাকা মণ ছিল।
আব্বাস আলী/এমআরআর/এএসএম