দেশজুড়ে

যশোরে কমছে না সবজির দাম

যশোরে সবজির বাজারে চড়াভাব অব্যাহত রয়েছে। মধ্য রমজানে এসে বেশিরভাগ সবজির দাম বেড়েছে। আলু থেকে শুরু করে বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ৫-১৫ টাকা বেড়েছে। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, ভোজ্যতেল, মাছ, মাংসের দাম। যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, যশোরের আট উপজেলায় ৩০ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে সবজি চাষ করা হয়। এসব জমিতে কৃষকরা বেগুন, পটোল, শিম, টমেটো, লাউ, মুলা, বাঁধাকপি, ঢেঁড়শ, বরবটি, শাকসহ বিভিন্ন সবজি আবাদ করেন। জেলার কৃষকরা মৌসুমে সাধারণত দুবার সবজির আবাদ করে থাকেন। একটি শীতকালীন সবজি, অন্যটি গ্রীষ্মকালীন। কৃষি ও বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রমজান মাসকে ঘিরে বরাবরই বাজারে চড়াভাব বিরাজ করে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বাজারে এখন শীতকালীন সবজি শেষের দিকে। বিপরীতে গ্রীষ্মকালীন সবজি ওঠা শুরু করেছে। পাশাপাশি সারাবছর যেসব সবজি পাওয়া যায়, তারও সরবরাহ রয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কিছুটা কম হওয়ায় দাম ঊর্ধ্বমুখী বলে বিক্রেতারা দাবি করছেন।

যশোরের বড় বাজার ও রেলবাজার ঘুরে দেখা গেছে, রমজানের শুরুর তুলনায় মধ্যভাগে এসে সবজির দাম কিছুটা চড়া। বাজারে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, পটোল ৬০-৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, উচ্ছে ৮০ টাকা, ঢেঁড়শ, বরবটি ও টমেটো ৪০ টাকা, শসা ৫০-৬০ টাকা দরে। আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা কমে ৬০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অপরিবর্তিত রয়েছে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম। ৩০-৩৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ ও ৮০-৯০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে রসুন। শহরের রেলবাজার এলাকার সবজি বিক্রেতা ইমাম আলী বলেন, রমজান উপলক্ষে বাজারে সবজির দাম একটু বেশি। বাজারে চাহিদার তুলনায় জোগান কম। তাই কিছু কিছু সবজির দাম একটু বেশি।

মাছ-মাংসের দাম আগের মতোই রয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০-২১০ টাকা, সোনালি ৩১০, লেয়ার ও কক ৩৩০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম ৭০০ টাকায় থামলেও খাসির মাংস ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকায় পৌঁছেছে।

বাজারে মাছের সরবরাহ প্রচুর ও দাম স্থিতিশীল। তেলাপিয়া ১৩০-১৬০ টাকা, সিলভার কার্প ১৬০-২০০ টাকা, রুই-কাতলা ২২০-৩০০ টাকা, মৃগেল ২০০-২৫০ টাকা, ইলিশ আকারভেদে ৪৫০-৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি কেজি স্বর্ণা চাল ৪৪-৪৬ টাকা, বিআর-২৮ ৫৬-৬০, বিআর-১০ ৪৮-৫২ টাকা, বিআর-৪৯ ৪৮-৫০ টাকা, কাজললতা ৫০-৫২ টাকা, মিনিকেট ৬০-৬৮ টাকা, বাংলামতি ৬৮-৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রতি কেজি দেশি মসুর ডাল ১৪০ টাকা, আমদানি করা মসুর ডাল ১০০ টাকা, ছোলা ৯০ টাকা, বুটের ডাল ৬০-৬৫ টাকা এবং মুগের ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১০-১৩০ টাকা কেজি দরে।

শহরের রেলরোড এলাকার বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম বলেন, কোনো কিছুর দাম একবার বাড়লে আর কমে না। এখন বাজারের যে পরিস্থিতি তাতে বেশি কেনার সুযোগ নেই। আয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাজার কমিয়ে দিতে হচ্ছে।

যশোরের সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কেউ যাতে অতিরিক্ত মুনাফা করতে না পারেন সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শীতকালীন সবজি প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। গ্রীষ্মকালীন সবজিও পুরোপুরি বাজারে আসেনি। এ কারণে দু-একটি সবজির দাম সামান্য ঊর্ধ্বমুখী। আর কয়েকটা দিন গেলে এবং বৃষ্টি-বাদল হলে সবজির দাম কমে আসবে।

মিলন রহমান/এসআর/এএসএম