একজন দুজন না। তার পছন্দর ফাস্টবোলার তিনজন। মাশরাফি, ডেইল স্টেইন আর ওয়াসিম আকরাম। কিন্তু এ তিনজনকে একই চোখে দেখেন না মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। দক্ষিণ আফ্রিকান ফাস্টবোলার ডেইল স্টেইনের ‘আগ্রাসন’ তার অনেক প্রিয়। ‘সুলতান অব সুইং’ ওয়াসিম আকরামের দুই দিকে সুইং করানোর ক্ষমতাও তাকে টানে অনেক। কিন্তু মৃত্যুঞ্জয়ের মনের গহীনে বাংলাদেশের সর্বকালের সফলতম অধিনায়ক ও তুখোড় ফাস্টবোলার মাশরাফি বিন মর্তুজা।
সেটি কেন? বার বার ইনজুরি আর ছোট-বড় মিলে অনেকগুলো অপারেশনের ধকলকে জয় করে বীরের মতো মাঠে ফিরে আসা মাশরাফি যেভাবে সাফল্যের পতাকা উড়িয়েছেন, সেটি খুব মনে দাগ কেটে আছে সাতক্ষীরার ২০ বছর বয়সী এ বাঁহাতি পেসারের।
তার ভাষায়, মাশরাফি ভাইয়ের ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করে জেতাটা আমার মনের গহীনে জায়গা করে নিয়েছে। আমিও তার মতো ইনজুরি জয় করা ফাইটার হতে চাই।
ডেইল স্টেইনের আগ্রাসন আর ওয়াসিম আকরামের সুইং বাদ দিয়ে মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী কেন মাশরাফিকে এগিয়ে রাখতে চান? তার ইনজুরি জয়ের ঘটনাকে বড় করে দেখতে চান?
কারণ হলো, এবারের বিপিএলে অভিষেকে হ্যাটট্রিক করে সবার নজরকাড়া এ বাঁহাতি পেসারও অসুস্থতা আর ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করেই এত দূর এসেছেন। ১৫ বছর বয়সী অনূর্ধ্ব-১৫ দলে প্রথম ডাক পেয়ে টাইফয়েডের কারণে খেলতে পারেননি। এক পর্যায়ে আইসিউতে পর্যন্ত যেতে হয়েছিল। পরে সেই অসুস্থতার ধকল কাটিয়ে মাঠে ফিরতে ফিরতে লেগে যায় অনেকটা সময়। জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৬ আর খেলা হয়নি। বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ দল থেকেও প্রথমবার বাদ পড়ে যান।
এদিকে ২০২১ সালের যুব বিশ্বকাপের আগে থেকে হঠাৎ কাঁধের ইনজুরির ভয়াল থাবায় আক্রান্ত হন মৃত্যুঞ্জয়। সেই কাঁধের ইনজুরির কারণে তার সে অর্থে বিশ্বকাপ খেলা হয়নি। প্রথম দুটি ম্যাচ খেলেই বিশ্বকাপের মাঠ থেকে বাড়ি ফিরে আসা। তার অস্ট্রেলিয়া থেকে সোল্ডার অপারেশন করেও লকডাউনের কারণে প্রায় ৫ মাসের বেশি সময় রিহ্যাব করতে না পারায় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে মাঠে নামতে লেগে যায় প্রায় বছর দেড়েক। তারপর এনসিএল আর বিসিএল খেলে অবশেষে এবারের বিপিএল দিয়ে শুরু নতুন পথচলা। প্রথম ৪ খেলায় সুযোগ না পাওয়া মৃত্যুঞ্জয় পঞ্চম ম্যাচে সুযোগ পেয়েই হ্যাটট্রিক করে বসেন।
এখনো জাতীয় দলে নাম না লেখালেও কাকতালীয়ভাবে মৃত্যুঞ্জয়ের এ অল্প বয়সে দুটি হ্যাটট্রিক রয়েছে। একটি এবারের বিপিএলে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে বন্দরনগরীর জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। শুনে অবাক হবেন, ৪ বছর আগে ২০১৮ সালে, অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে ভারতের মাটিতে আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৭ দলের বিপক্ষে তিন দিনের ম্যাচেও হ্যাটট্রিক আছে তার।
কেমন ছিল তার ছেলেবেলা? ক্রিকেটে হাতেখড়ি কার কাছে? ইনজুরির সঙ্গে লড়াই আর সংগ্রামের পথ চলাই বা ছিল কেমন? যুব বিশ্বকাপের মাঠ থেকে কাঁধের ইনজুরি নিয়ে দেশে ফেরার পর কীভাবে আবার নিজেকে তৈরি করেছিলেন? তার নাম নিয়ে সর্বমহলে একটি ‘কনফিউশন’ আছে। এসব নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে একান্তে খোলামেলা আলাপ করেছেন সাতক্ষীরার এ সম্ভাবনাময়ী বাঁহাতি মিডিয়াম পেসার।
জাগো নিউজ: আপনার নাম নিয়ে একটা কনফিউশন আছে?
মৃত্যুঞ্জয়: পারিবারিক নাম বলতে বাসায় আমাকে সবাই মৃত্যুন বলেই ডাকে। আবার নিপুন বলেও ডাকে। তবে আমিও বুঝি, আমার নাম নিয়ে সবার মাঝে একটি দ্বিধা-সংশয় কাজ করে। ৯০ শতাংশ মানুষ নাম শুনে আমাকে হিন্দু ভাবে। আসলে তা নয়। আমি মুসলিম পরিবারের সন্তান। আমার নাম নিয়ে যে কনফিউশন আছে, সেটি আব্বুকেও বলেছি। কিন্তু তিনি নাম পাল্টাননি। কারণ আব্বুর ফেভারিট নাম। তিনিই পছন্দ করে রেখেছেন।
জাগো নিউজ: আপনাদের ফ্যামিলি টাইটেল কি চৌধুরী?
মৃত্যুঞ্জয়: (হেসে) হ্যাঁ, আমরা চৌধুরী বংশ। আমার বড় ভাই আমাকে ডাকে ছোট চৌধুরী। আর আমি ভাইয়াকে ডাকি বড় চৌধুরী। মৃত্যুনটাই মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী হয়ে গেছে।
জাগো নিউজ: ক্রিকেটে হাতেখড়ি কোথায়, কার কাছে?
মৃত্যুঞ্জয়: সাতক্ষীরায়। টুকটাক খেলতাম সাতক্ষীরাতেই। তবে সেভাবে কোচিং করা হয়নি কারো অধীনে। ক্রিকেট চর্চা এবং আভিধানিক শিক্ষা বলতে গেলে বলতে হবে ঢাকায় এসে।
জাগো নিউজ: সেটি কখন?
মৃত্যুঞ্জয়: সেটা ২০১১ সালে। আমার বয়স তখন ১০-১১। আমার বড় ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন। আমিও চলে এলাম তার সঙ্গে। এসে কলাবাগানের সিসিএস একাডেমিতে ভর্তি হলাম, কোচ দিপু রায় চৌধুরী স্যারের অধীনে।
সেখানে বছর দুয়েক কোচিং নেই। তারপর ২০১৩ সালে চলে যাই কোচ জাফরুল আহসান স্যারের একাডেমি উদয়নে। আহসান স্যারই আমাকে তৈরি করেছেন। বলতে পারেন তিনিই আমার গুরু। আমার ক্রিকেটার হবার পেছনে তার একটি বড় ভূমিকা আছে।
জাগো নিউজ: তারপর কি ধীরে ধীরে বয়সভিত্তিক দলে ঢুকে পড়া?
মৃত্যুঞ্জয়: হ্যাঁ, তাই।
জাগো নিউজ: এরপর কোথায়, কীভাবে খেললেন?
মৃত্যুঞ্জয়: এরপর উদয়নে এহসান স্যারের অধীনেই কাটলো আমার ক্রিকেটার হবার দিন।
জাগো নিউজ: সেখান থেকে কি বয়সভিত্তিক কোনো দলে সুযোগ পেয়েছিলেন?
মৃত্যুঞ্জয়: হ্যাঁ, পেয়েছিলাম। আমি ২০১৬ সালে অনূর্ধ্ব ১৫ দলে জায়গা পাই। কিন্তু দুর্ভাগ্য, আমার খেলা হয়নি। শরীর খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল। প্রথমে টাইফয়েডে আক্রান্ত হই। সেখান থেকে আমাকে হাসপাতালে আইসিউতে স্থানান্তর করা হয়। সেই অসুস্থতা কাটিয়ে উঠতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। অনূর্ধ্ব ১৬-তে চান্স পেলাম না। এরপর প্রথমবার আমাকে অনূর্ধ্ব ১৭-তে নেওয়া হয়নি।
তবে পরেরবার, ২০১৮ সালে আমি ভালো পারফর্ম করে অনূর্ধ্ব ১৭ দলে জায়গা করে নেই।
জাগো নিউজ: সেটি কীভাবে ?
মৃত্যুঞ্জয়: ২০১৮ সালকে আমার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট বা জীবন বদলের বছর বলা যায়। ওই বছর আমি অনূর্ধ্ব ১৮ খেলতে গেলাম ভারতে। প্রথম ম্যাচে আমি ৭ উইকেট পাই এবং ৭৮ রান করি। ওই সিজনটা আমার খুব অসাধারণ যায়। ওই অসাধারণ পারফরমেন্সের কারণে আমাকে আবার অনূর্ধ্বে ১৭-তে ডাকা হয়। যে দল থেকে দুই বছর আগে আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
তারপর আবার শুরু হয় অনূর্ধ্ব ১৭-তে খেলা।
জাগো নিউজ: অনূর্ধ্ব-১৭ তে ফিরে আপনি কেমন পারফর্ম করেছিলেন?
মৃত্যুঞ্জয়: আমার অনূর্ধ্ব-১৭’র অভিষেক হয় ভারতের মাটিতে, আফগানিস্তানের সঙ্গে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য খবর হলো, আমার দুর্দান্ত অভিষেক হয়। আফগানদের দেশে সমস্যার কারণে তাদের হোম গ্রাউন্ড ছিল ভারতে। সেই ভারতের মাটিতে আফগানদের সঙ্গে প্রথম ম্যাচেই আমি হ্যাটট্রিক করি।
বিপিএলের অভিষেকে যেমন হ্যাট্ট্রিক দিয়ে শুরু, একইভাবে আমি অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলের হয়ে প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমে বল হাতে হ্যাটট্রিক করেছিলাম। সেটি আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা। খুব সম্ভবত সেটি ২০১৮ সালের এপ্রিলের দিকের ঘটনা।
খেলাটি ছিল ৪ দিনের ম্যাচ। এক পর্যায়ে আফগানদের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ২৩০+। আমি হ্যাটট্রিকসহ ৭ উইকেট নেই। আফগানরা ২৩৬ রানে অলআউট হয়ে যায়। ওই ম্যাচে আমি দুই ইনিংসে ১২টা আর পরের ম্যাচেও ১০টার মতো উইকেট পেয়েছিলাম। ২ ম্যাচে আমার ২২-২৩ উইকেট ছিল।
এরপর ওডিআই খেলেছিলাম দুটি। একটিতে ১০ ওভার বল করে ১০ রানে ৩ উইকেট পেয়েছিলাম। ওই সিজনটা আমার অসাধারণ কেটেছিল। সেখান থেকে আর বয়সভিত্তিক খেলতে হয়নি। ১৮ সালেই আমি আন্ডার-১৯ মেইন টিমে ডাক পাই।
জাগো নিউজ: তারপরে...
মৃত্যুঞ্জয়: আমি অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে প্রায় টানা ২ বছর প্র্যাকটিসে এবং নানা প্রস্তুতি ম্যাচ ও বিদেশ সফরে খুব ভালো বোলিং করেছিলাম। যতদূর মনে পড়ে, ১৯ খেলায় আমার উইকেট সংখ্যা ছিল ৩৮ থেকে ৩৯টি। তাও কাঁধের ইনজুরির কারণে নিউজিল্যান্ড সফরে যেতে পারিনি। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ২০১৯ সালের শেষ দিকে সিরিজ হয়েছিল, সেটিও খেলা সম্ভব হয়নি।
শরিফুল আমার থেকে ৭ ম্যাচ বেশি খেলে আমাকে টপকে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে সর্বাধিক উইকেট শিকারী হয়ে যায়। নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে প্রথম ম্যাচ খেলে উইকেট পেয়েছিলাম ৩টি। তারপর আর খেলতে পারিনি। শ্রীলঙ্কা সিরিজ পুরোই মিস করেছি। আর ওয়ার্ল্ড কাপে গিয়ে ২ ম্যাচ খেলার পর আর খেলতে পারিনি।
জাগো নিউজ: সে সময় আপনার সমস্যাটা কী ছিল?
মৃত্যুঞ্জয়: প্রথম ২ ম্যাচ খেলে সোল্ডার ইনজুরির কারনে আর খেলা সম্ভব হয়নি।
জাগো নিউজ: আপনার কাঁধের ইনজুরি কি বিশ্বকাপেই প্রধম দেখা দিলো?
মৃত্যুঞ্জয়: না, না। আমি যখন নাইনটিন খেলতে যাই প্রথমবার, তখনই কাঁধের ব্যাথা দেখা দেয়। আমি কাঁধের ইনজুরির কারণে বলে গতি কমিয়ে দিয়েছিলাম। এমনিতে ছিলাম ওপেনিং বোলার। সোল্ডার ইনজুরির কারণে হয়ে যাই পরিবর্তিত বোলার। ম্যানেজ করে করে খেলতাম।
অবস্থা এমন হয়েছিল যে, ২-৩ ওভার জোরে বোলিং করার পর একটু স্লো বল করতে হতো। তা না হলে আমার সোল্ডার কাজ করতো না।
ওয়ার্ল্ডকাপে খুব কষ্ট করে বোলিং করি। প্রথম ২ ম্যাচ আমি খুব স্ট্রাগল করে থার্ড সিমার হিসেবেই বোলিং করি। এক পর্যায়ে স্কটল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিতীয় ম্যাচের পর আমি টিম ম্যানেজমেন্টকে জানিয়ে দেই, আমার আর খেলা সম্ভব না। এবং আমি দলকেও হ্যাম্পার করতে পারি না। এমন ভেবেই না করে দেওয়া। আমার মনে হয়, আমি তখন ঠিক কাজটিই করেছিলাম। কারণ সেটা ছিল আমাদের যুবাদের বিশ্বকাপ বিজয়ের মিশন। সেখানে আমিও দলের নিয়মিত সদস্য ছিলাম। এখন আমি যদি ইনজুরি নিয়েই খেলা চালিয়ে যাই আর কোনো ভাইটাল ম্যাচে আমার সোল্ডারের ইনজুরির কারণে যদি আর বল করতে না পারি, তাহলে তো দলের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। এসব ভেবেই তারপর সোজা দেশে ফিরে আসি।
জাগো নিউজ: তারপর কী হলো? দল তো চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফিরলো। আপনার কাঁধের ইনজুরির তখন কী অবস্থা?
মৃত্যুঞ্জয়: দেশে ফেরার পর বিসিবি আমার দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছে। আমাকে চিকিৎসার জন্য অস্ট্রেলিয়া পাঠানো হলো। অস্ট্রেলিয়াতে সার্জারি করার পর যেদিন আমি দেশে ফিরেছি সেদিন থেকেই আমাদের দেশে প্রথম লকডাউন শুরু হয়। এবং ওটার দুই থেকে তিন মাস পরে রিহ্যাব শুরুর কথা ছিল। বাট ওই লকডাউনটা ছিল ৫-৬ মাসের। এমন একটা পরিস্থিতি ছিল যে, কোনো ধরনের রিহ্যাব বা অন্য কিছুর জন্য ঘর থেকে বের হওয়াও সম্ভব ছিল না।
বড় আকারে বা ঠিকমতো রিহ্যাব করতে পারিনি। ঘরে যা করতে পেরেছি, তাই করেছি। যে কারণে আমার সোল্ডার ঠিক হতে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি সময় লেগেছে। প্রায় দেড় বছরের মতো লেগেছে।
তারপর প্রিমিয়ার লিগ দিয়ে শুরু করলাম মাঠে ফেরা। প্রিমিয়ার লিগে ৩-৪টি ম্যাচ খেলেছিলাম।
মূলত ব্যাটার হিসেবেই খেলেছি। কারণ কাঁধ তখন শতভাগ স্বাভাবিক হয়নি। দেড় বছর পর যখন ব্যাটিং করেছি তখন ম্যাচের সঙ্গে অ্যাডজাস্ট হচ্ছিল না। হয়তো আমি ম্যাচ জিতিয়েছি। সেটা ছিল টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের প্রিমিয়ার লিগ। আমি সব সময়ই ডেথ ওভারে বোলিং করতে পছন্দ করতাম। প্রিমিয়ার লিগে শাইনপুকুরের হয়ে যখন ডেথ ওভারে ১০ থেকে ১৫ রান ডিফেন্ড করে দলও জিতিয়েছি। দুই তিনটি ম্যাচ জিতেছি।
তারপরও বলবো, আমি সুস্থ হয়ে প্রিমিয়ার লিগে মাঠে নেমেও নিজের সেরাটা দিতে পারিনি। মন মতো খেলতে পারিনি। খেলা দরকার ছিল। আমার মূলত খেলা শুরু হয়েছিল এনসিএল থেকে। তিন ম্যাচে ১০ কিংবা ১১ উইকেট পেয়েছিলাম। ব্যাটিংয়েও ২০-এর মতো অ্যাভরেজ ছিল।
সেখান থেকে আমি কিছুটা ফোকাস হই। এরপর বিসিএলে চান্স পাই। আমি ওয়াল্টন মধ্যাঞ্চলের হয়ে খেলি। বিসিএলের একদিনের সিরিজটি খুব ভালো গেছে। যেটি আমি চাচ্ছিলাম, ডেথ ওভারে বোলিং থেকে শুরু সামগ্রীক বোলিংটা ভালোই হয়েছে। আমরা ২ ফরম্যাটেই চ্যাম্পিয়ন হই। এরপর বিপিএলে সুযোগ আসলো।
জাগো নিউজ: আপনার আদর্শ কে বা কারা?
মৃত্যুঞ্জয়: আমি পারসোনালি কাউকে আদর্শ হিসেবে নেইনি।
তবে ইনজুরি বা ফাইটার হিসেবে থাকার ক্ষেত্রে আদর্শ নিয়েছি মাশরাফি ভাইকে। আগ্রাসী ফাস্টবোলার হিসেবে আমার পছন্দ ডেউল স্টেইন। আর সুইং বোলার হিসেবে আমার খুব প্রিয় ওয়াসিম আকরাম।
এআরবি/এমএইচআর/জিকেএস