ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে অতিরিক্ত হাইওয়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যাত্রীদের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এ দুই মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে ১৬৭ পুলিশ সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে। তারা ঈদের তিনদিন পর্যন্ত মহাসড়কেই অবস্থান করবেন।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার শিমরাইল ক্যাম্পের ট্রাফিক ইনচার্জ (টিআই) একেএম শরফুদ্দিন এবং কাঁচপুর হাইওয়ে থানার টিআই মো. ইব্রাহিম জাগো নিউজকে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার (১৯ এপ্রিল) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ তিনটি শিফটে ভাগ হয়ে কাজ করছে। হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি ৮০ জন কমিউনিটি পুলিশও মহাসড়কে অবস্থান করছেন। মহাসড়কের যেকোনো স্থানে যাত্রী ওঠানামা করতে দেওয়া হচ্ছে না। খুব দ্রুত একস্থানে থেকে আরেকস্থানে যেতে বাসচালকদের বাধ্য করা হচ্ছে।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার শিমরাইল ক্যাম্পের টিআই একেএম শরফুদ্দিন জানান, এবারের ঈদে গাজীপুর রিজিয়নে মোট ৬০২ জন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট টোলপ্লাজা এলাকা এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর থেকে রূপগঞ্জের ভুলতা পর্যন্ত অংশে ১৬৭ জন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তারা তিন শিফটে মহাসড়কে কাজ করছেন।
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) থেকে ঈদের তিনদিন পর পর্যন্ত তারা মহাসড়কে অবস্থান করবেন। তাদের পাশাপাশি ৮০ জন কমিউনিটি পুলিশও মহাসড়কে কাজ করছেন।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার টিআই ইব্রাহিম জানান, যানজট নিরসনে ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি ছয়টি মোবাইল টিম, তিনটি হোন্ডা টিম ও একটি অ্যাম্বুলেন্স টিম থাকবে। মহাসড়কে যেকোনো যানবাহন বিকল হয়ে গেলে কিংবা কোনো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলে তা দ্রুত সরানোর জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত একটি রেকার, সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর থেকে মেঘনাঘাট টোলপ্লাজা পর্যন্ত একটি রেকার এবং ঢাকা সিলেট মহাসড়কে ভুলতা এলাকা পর্যন্ত আরেকটি রেকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঈদকে কেন্দ্র করে মেঘনাঘাট টোলপ্লাজার প্রত্যেকটি বুথ সবসময় যেন সচল থাকে সে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। এ পয়েন্টে সবচেয়ে বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আশা করছি, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ঈদযাত্রা স্বাভাবিক হবে। আমরা ঘরমুখো মানুষের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে চেষ্টা করছি।
রাশেদুল ইসলাম রাজু/এসআর/জিকেএস