খেলাধুলা

আফিফ-মোসাদ্দেক ঝড়ে আবাহনীর বড় পুঁজি

প্রান্তিক নওরোজকে ধন্যবাদ জানাতেই পারেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। মাত্র ২২ রানে আফিফের লোপ্পা ক্যাচ ফেলে দিয়েছিলেন প্রান্তিক নওরোজ।

প্রাইম ব্যাংক লেগস্পিনার অলক কাপালির বলে স্লগ সুইপ করে ওয়াইড লং অন দিয়ে বিরাট ছক্কা হাঁকিয়ে ঠিক পরের বলে প্রায় একই ধরনের শট খেলতে গিয়ে আকাশে তুলে দিয়েছিলেন আবাহনীর বাঁ-হাতি এই মিডল অর্ডার। ব্যাটের ওপরের দিকের অংশে লেগ আকাশে ভেসে বল চলে গিয়েছিল প্রান্তিক নওরাজের হাতে। তিনি দু‘হাতে তা ধরে শেষ মুহূর্তে ফেলে দেন। আর এভাবেই জীবন পেয়ে যান আফিফ।

এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। নিজের মত করে খেলেছেন আফিফ। রুবেল হোসেন, রেজাউর রহমান রাজা, শেখ মাহদি, নাসির হোসেন, অলক কাপালি ও পকিস্তানি কাশিফ ভাটের গড়া প্রাইম ব্যাংক বোলিংকে দুমড়ে মুচড়ে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে চার ও ছক্কার ঝড় তুলে দারুণ এক সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন আফিফ।

তার ব্যাট থেকে আসা ১০১ বলে ১১১ রানের হার না মানা ঝোড়ো ইনিংসের ওপর ভর করেই ২৮৫ রানের বড় স্কোর পেয়েছে আবাহনী।

আকাশী হলুদদের এতদুর টেনে আনার পিছনে অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের অবদানও কিছু কম নয়। ডিপ স্কোয়ার লেগে জাকির হাসানের দারুণ ক্যাচের শিকার না হলে হয়ত আফিফের মত মোসাদ্দেকও শতরান করে ফেলতে পারতেন।

আগের ম্যাচে মোহামেডানের বিপক্ষে দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরমেন্সের (হাফ সেঞ্চুরি ও ৪ উইকেট)-এর পর আজ ফতুল্লায় প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে চমৎকার ব্যাটিং করে দলকে এগিয়ে নিতে কার্যকর অবদান রেখেছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

এবারের লিগে আবাহনীর হয়ে রানের নহর বইয়ে দেয়া দুই ওপেনিং পার্টনার এনামুল হক বিজয় (৩৫ বলে ৩১) আর নাইম শেখ (৪৩ বলে ২৬) প্রথম উইকেটে ৫৫ রান জুড়ে দিলেও ইনিংসকে বড় করতে পারেননি। একই ভুল করে ইনিংসের শুরুর দিকে ছক্কা হাঁকানোর পর একই বোলারকে অযথা বিগ শট খেলতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফিরে এসেছেন মাহমুদুল হাসান জয়ও (৩২ বলে ১৯)।

মোটকথা আবাহনীর প্রথম তিন ব্যাটার স্টার্ট পেয়েও লম্বা ইনিংস খেলতে পারেননি। তারপরও আবাহনী বড়সড় স্কোরের ভিত পায় আফিফ আর মোসাদ্দেকের ব্যাটে। চতুর্থ উইকেটে ১৪০ রানের বিরাট পার্টনারশিপ গড়েন বাঁ-হাতি আফিফ আর অধিনায়ক মোসাদ্দেক। আবাহনী ক্যাপ্টেন ৭৬ বলে সমান চারটি করে ছয় ও চারের মার মেরে ৬৭ রানে ফিরলেও আফিফ শতক পূর্ণ করে শেষ বল পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন।

৬১ বলে পঞ্চাশে পা রাখা বাঁ-হাতি আফিফ ইনিংসটাকে বেশ সুন্দর করে সাজিয়েছেন। ইনিংসের বয়স যত বেড়েছে, আফিফের মারের গতিও তত বৃদ্ধি পেয়েছে। তার হাফ সেঞ্চুরিতে ছিল ২ ছক্কা ও চার বাউন্ডারি। শেষ পর্যন্ত ৯৭ বলে সেঞ্চুরি হাঁকাতে আফিফ মেরেছেন ৪ ছক্কা ও ৬টি বাউন্ডারি। পরের পঞ্চাশ করতে খেলেছেন মাত্র ৩৬ বল।

আফিফ ও মোসাদ্দেক যেন পণ করেই নেমেছিলেন, আমরা শুরুর দিকে সিঙ্গেলস, ডাবলসে খেলে মারার বল মেরে শেষ দিকে গিয়ে হাত খুলে খেলবো। আর তাই শেষ ১০ ওভারে আবাহনী তুলেছে ১০২ রান।

তারই ফলশ্রুতিতে মোসাদ্দেক বাহিনীর সংগ্রহ ৫০ ওভারে ২৮৫ (৫ উইকেটে)। প্রাইম ব্যাংকের দুই অফস্পিনার নাসির হোসেন (১০ ওভারে ০/২৬) আর পাকিস্তানী স্পিনার কাশিফ ভাট (২/৩৯) বেশ বুদ্ধি খাটিয়ে ভাল জায়গায় বল ফেলে রানের গতি কিছুটা নিয়ন্ত্রনে রাখলেও শেখ মাহদি (১০ ওভারে ২/৬২), রুবেল হোসেন (৯ ওভারে ০/৭২) ও রেজাউর রহমান রাজা (৬ ওভারে ১/৪৮) বেদম মার খেয়েছেন।

সুপার লিগের প্রথম ম্যাচে সাহাদত দিপু আর জাকির হাসানের জোড়া সেঞ্চুরিতে লিজেন্ডস অব রুপগঞ্জের বিপক্ষে ৩৩০ রানের রান পাহাড় গড়েছিলো প্রাইম ব্যাংক। দেখা যাক আবাহনীর ধারালো বোলিংয়ের বিপক্ষে ২৮৬ রানের পিছু ধেয়ে কী করে মোহাম্মদ মিঠুনের দল?

এআরবি/আইএইচএস