নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকার হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জাকির খানের পক্ষে মামলার বাদী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে জেরা করেছেন আইনজীবীরা।
রোববার (৭ মে) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক উম্মে সরাবন তহুরার আদালতে এ জেরা করা হয়। একই সময়ে আদালতে জাকির খানের জামিন চাইলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন। সেই সঙ্গে আগামী ১৩ জুলাই পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়।
এ নিয়ে দ্বিতীয় দফায় আইনজীবীরা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে জেরা করেছেন। এর আগে গত ৬ মার্চ তাকে জেরা করা হয়েছিল। অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার গত ১৬ ফেব্রুয়ারি জাকির খানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।
সাব্বির আলম খন্দকারের বড় ভাই অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, কারও সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। এটা কোনো রাজনৈতিক বিরোধ নয়। আমি আমার ভাই হত্যার বিচার চাই। আশা করি আমরা ন্যায়বিচার পাবো।
আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ী হত্যায় ২ জনের যাবজ্জীবন
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রবিউল হোসেন বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। যে মামলার বাদী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। আমরা তৈমূর আলম খন্দকারের জেরা শেষ করেছি। আমরা জাকির খানের পক্ষে জামিন চেয়েছিলাম আদালত জামিন মঞ্জুর করেননি। আমরা উচ্চ আদালতে যাবো। আমরা আশা রাখি এ মামলায় আমাদের আসামি নির্দোষ প্রমাণিত হবেন।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম বলেন, ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকার হত্যা মামলায় আসামি জাকির খানের বিরুদ্ধে তার বড় ভাই অ্যাডভোকেট তৈমূর দ্বিতীয় সাক্ষী দেন। সেই সাক্ষীর ভিত্তিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে দুই দফায় জেরা করেছেন।
এদিকে জাকির খানকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে আনাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই তার অনুসারীরা উপস্থিত হন। এক পর্যায়ে তারা জাকির খানের মুক্তি চেয়ে স্লোগান দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ থামিয়ে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগে থেকেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সাব্বির হত্যা হামলার আসামি জাকির খানকে আদালতে আনা হয়েছিল। আজ (রোববার) বাদীকে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেছেন। জেরা শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জাকির খান নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী সাব্বির আলম হত্যা মামলার আসামি ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। পরিচয় গোপন করে গত এক বছর সপরিবার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বসবাস করছিলেন। পরে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর ভোরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে সাব্বির আলম খন্দকার হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ২০০৬ সালের ৮ জানুয়ারি আদালতে জাকির খান, তার দুই ভাই জিকু খান, মামুন খানসহ আটজনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার প্রধান আসামি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপিদলীয় সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনকে মামলা থেকে বাদ দেওয়ায় মামলার বাদী তৈমূর আলম খন্দকার সিআইডির দেওয়া অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে ওই বছরের ২৪ জানুয়ারি আদালতে নারাজি পিটিশন দাখিল করেন। পরে অক্টোবর মাসে তৈমূর আবার এ নারাজি প্রত্যাহার করে নেন। তবে এ মামলায় অনেকদিন ধরে সাক্ষীরা আদালতে সাক্ষ্য দিতে আসছিলেন না।
মোবাশ্বির শ্রাবণ/আরএইচ/এএসএম