দেশজুড়ে

গাঁজা সেবনে বাধা দেওয়ায় দুই কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নে এক নারী মেম্বারের বাড়িতে দুই কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

গাঁজা সেবনে বাঁধা দেওয়ায় বৃহস্পতিবার (৪ মে) দুপুরে রোহিতা ইউনিয়নের স্মরণপুর গ্রামে ইউপি মেম্বার ইসমত আরা ঝুমুরের বাড়িতে তুলে নিয়ে ওই দুই কিশোরকে নির্যাতন করা হয়।

নির্যাতনের শিকার দুই শিক্ষার্থী হলো উপজেলার স্মরণপুর গ্রামের মৃত আবুল কামালের ছেলে আশিক (১৫) ও প্রতিবেশী সাহাবুদ্দিনের ছেলে আব্দুল হাকিম (১৬)। এদের মধ্যে আশিক চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে।

গাছে বেঁধে দুই কিশোরের নির্যাতনের ছবিটি শুক্রবার (৫ মে) রাতে ভাইরাল হয়। নির্যাতনের খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মনিরামপুর উপজেলার স্মরণপুর গ্রামটি পার্শ্ববর্তী ঝিকরগাছা উপজেলার সীমান্তে অবস্থিত। ঝিকরগাছা উপজেলার জনৈক রবিউল ইসলাম মাদকের কারবার করেন বলে অভিযোগ। তার সহযোগী হিসেবে কাজ করেন মনিরামপুর উপজেলার রুহুল আমিন, তারেক, সাগরসহ কয়েক যুবক। বৃহস্পতিবার মনিরামপুর উপজেলার স্মরণপুর গ্রামের খ্রিস্টান বাড়ির মোড়ে গাঁজা সেবন করছিলেন বাসুদেবপুর গ্রামের রনি ও দ্বীপ নামের দুই যুবক।

এ দুই যুবকসহ আরও কয়েকজন প্রায়ই সেখানে গাঁজা সেবন করেন। তারা পাশের গ্রাম থেকে এসে সেখানে গাঁজা সেবন করার দায় স্থানীয় যুবকদের ওপর পড়ে। যে কারণে ঘটনার দিন রনি ও দ্বীপকে সেখানে এসে গাঁজা সেবন করতে নিষেধ করে ওই দুই কিশোর। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দুজনকে শায়েস্তা করতে রনি ও দ্বীপ রুহুল আমিন, সাগর ও তারককে জানান। পরে ওইদিন দুপুরে দুই শিক্ষার্থী আশিক ও হাকিমকে ধরে নারী মেম্বার ঝুমুরের বাড়িতে নিয়ে যান তারা। সেখানে দুই কিশোরকে গাছে বেঁধে মারপিট করা হয়। মেম্বার ঝুমুর নিজেও তাদের মারপিট করেন।

এ বিষয়ে নির্যাতনের শিকার হাকিমের চাচা রুবেল হোসেন বলেন, গাঁজা বিক্রির প্রতিবাদ করায় ক্ষুব্ধ হয়েছে একটি চক্র। ওই চক্রের হোতা রবিউল ইসলাম নারী মেম্বার ইসমত আরা ঝুমুরের লোক হিসেবে পরিচিত। তারা ওই মেম্বারের কাছে আশিক ও হাকিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পরে মেম্বারের নির্দেশে আশিক ও হাকিমকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর মেম্বারের বাড়ির উঠানের গাছে বেঁধে বেদম মারপিট করা হয়েছে।

অভিযুক্ত রোহিতা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ইসমত আরা ঝুমুর বলেন, ‘ওইদিন আমি বাড়িতে ছিলাম না। স্থানীয় কিছু লোক ছিনতাইয়ের অভিযোগে ওই দুই কিশোরকে তুলে এনে মারপিট করেছে। এ বিষয়ে আমি জড়িত নই।’

মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মনিরুজ্জামান বলেন, দুই কিশোরকে মারপিটের ঘটনায় কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মিলন রহমান/এসআর/জেআইএম