ধরেই নেয়া হচ্ছিল, ১৩ মে শেখ জামাল এবং আবাহনী ম্যাচটা অলিখিত ফাইনাল এবং মনে করা হচ্ছিল, শনিবারের ওই লিগ নির্ধারনী ম্যাচে মাঠে নামার আগে পয়েন্ট টেবিলে ওপরেই থাকবে আবাহনী; কিন্তু সুপার লিগের চতুর্থ ম্যাচে এসে বদলে গেল সে হিসাব-নিকাশ, সমীকরণ। পুরোপুরি পাল্টে গেল দৃশ্যপট।
আজ বুধবার বিকেএসপি ৩ নম্বর মাঠে তুলনামূলক কম শক্তির গাজী গ্রুপের কাছে অপ্রত্যাশিতভাবে হেরে গেলো মোসাদ্দেক হোসেনের আবাহনীর। বৃষ্টির বাগড়ায় ম্যাচের ভাগ্য গড়ে ডিএল মেথডে। যাতে গাজী গ্রুপের লক্ষ্য দাড়ায় ৪৫ ওভারে ২১৪। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেট হাতে রেখে ১৯ বল আগেই জয় তুলে নেয় গাজী গ্রুপ।
রাউন্ড রবিন লিগ এবং সুপার লিগ মিলে ১৫ নম্বর ম্যাচে আবাহনীর এটা দ্বিতীয় পরাজয়। ওদিকে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে ডিএল মেথডে ৫৯ রানের জয়ে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ধরে ফেললো আবাহনীকে। সমান ১৫ ম্যাচে নুরুল হাসান সোহানের দলের পয়েন্টও ২৬।
এখন ১৩ মে আবাহনী এবং শেখ জামাল পয়েন্টে সমান সমান থেকেই অঘোষিত ফাইনালে মুখোমুখি হবে।
স্পিনার টিপু সুলতান এবং পেসার জয়নালের সাঁড়াসি বোলিং আক্রমণের মুখে প্রথমে ব্যাট করা আবাহনীর বড়সড় স্কোর গড়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। আবাহনী আটকে থাকে ২৪৬ রানে। ফর্মের চুড়ায় থাকা ওপেনার নাইম শেখ সর্বোচ্চ ৬১ রান করেন। এছাড়া মিডল অর্ডার মাহমুদুল হাসান জয়ের ব্যাট থেকে আসে ৪৮ রান।
অপর ওপেনার এনামুল হক বিজয়ের সংগ্রহ ছিল ৪৩; কিন্তু আফিফ হোসেন ধ্রুব (১১), অধিনায়ক মোসাদ্দেক (২৬), উইকেটরক্ষক জাকের আলী অনিক (০) ও পাকিস্তানি খুশদিল শাহ (১২) কার্যকর অবদান রাখতে না পারায় আবাহনীর লড়াকু পুঁজি গড়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত বোলাররা, বিশেষ করে পেসার তানজিম সাকিব, রিপন মন্ডল আর তিন বাঁ-হাতি স্পিনার রাকিবুল, তানভির ও খুশদিল শাহ এই স্কোরকে জয় সূচক পুঁজিতে রুপান্তরিক করতে পারেননি।
গাজী গ্রুপের মিডল অর্ডার আসাদুল্লাহ গালিব একপ্রান্তে হিমালয়ে দৃঢ়তায় দাঁড়িয়ে থাকার পাশাপাশি ম্যাচ জিতিয়ে বিজয়ীর বেশে সাজঘরে ফেরেন। গালিবের ব্যাট থেকে আসে ৯৫ বলে (১১ বাউন্ডারিতে) ৮৫ রানের হার না মানা ইনিংস।
সঙ্গে এসএম মেহরাব তিন ছক্কা ও দুই বাউন্ডারিতে ৬৭ বলে ৫২ রানের কার্যকর ইনিংস খেলে গাজী গ্রুপকে জেতাতে রাখেন কার্যকর অবদান। এছাড়া ওপেনার মেহেদি মারুফও খেলেন ৩০ রানের ইনিংস।
তার সঙ্গী হাবিবুর রহমান সোহান (৮), ফরহাদ হোসেন (২৩) তাদের বিপক্ষে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারলেও অধিনায়ক আকবর আলী ঠিক শেষদিকে নেমে ১৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে হাসিমুখে ফেরেন ড্রেসিং রুমে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আবাহনী: ২৪৬/১০, ৪৭.২ ওভার (বিজয় ৪৩, নাইম শেখ ৬১, আফিফ ১১, মাহমুদুল হাসান জয় ৪৮, মোসাদ্দেক ২৬, খুশদিল শাহ ১২, জাকের আলী ০, তানজিম সাকিব ১৪, রাকিবুল ১৬, তানভির ১, রিপন মন্ডল ৫; টিপু সুলতান ৪/৪৭, জয়নাল ২/৪৬, সুমন খান ১/৪৪, আসাদুল্লাহ গালিব ১/৪৩)।
গাজী গ্রুপ: ২১৫/৪, ৪১.৫ ওভার (মেহেদি মারুফ ৩০, হাবিবুর রহমান সোহান ৮, ফরহাদ হোসেন ২৩, এসএম মেহরাব ৫২, আসাদুল্লাহ গালিব ৮৫, আকবর আলী ১৩*; তানভির ২/৫০, রাকিবুল ১/৪৩, খুশদিল শাহ ১/৩০)।
ফল: গাজী গ্রুপ ৬ উইকেটে জয়ী।
এআরবি/আইএইচএস