দীর্ঘ ১৩ বছর পর রাজশাহীর শহীদ এএইচএস কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে গড়ালো কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ। অথচ গ্যালারি জুড়ে শুনশান নিরবতা। কারণ, স্টেডিয়ামে দর্শক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবুও স্টেডিয়ামের সামনে ভিড় করতে দেখা গেছে সাধারণ মানুষকে। দর্শক প্রবেশে বিসিবির এমন নিষেধাজ্ঞায় ক্ষুদ্ধ এই অঞ্চলের ক্রিকেটপ্রেমীরা।
১৩ বছর পর প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে রাজশাহীর এই স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল এবং পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল। বৃহস্পতিবার সকালে টসে জিতে ফিল্ডিং করতে নামে বাংলাদেশের যুবারা।
বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের যুবাদের খেলাকে কেন্দ্র করে স্টেডিয়ামজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ। তবে স্টেডিয়ামে বসে খেলা না দেখতে পাওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ক্রিকেটপ্রেমীরা।
রাজশাহী টিকা পাড়া থেকে খেলা দেখতে আসেন একদল তরুণ। তাদেরই একজন, ইয়ামিন হোসেন। তিনি বলেন, এত বছর পর খেলা হচ্ছে। তাও আবার রাজশাহীতে। রাজশাহীর শান্তি শহর এখানে কোন অশান্তি হয় না। এখানে কেন মাঠে প্রবশ করতে দেওয়া হবে না? আমরা অনেক কষ্ট করে ঢাকায় গিয়ে খেলা দেখি। ভেবেছিলাম রাজশাহীতে এবার খেলা দেখবো। তবে সে আশা আর পূরণ হলো না। এটা বিসিরি খামখেয়ালি ছাড়া কিছু নয়।
নগরীর লক্ষীপুর এলাকা থেকে এসেছেন হাসিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের সাথে আমাদের খেলা। এই খেলা না দেখতে পারার কি যে কষ্ট, সেটা বোঝাতে পারবো না। এই খেলাতো কোথাও সম্প্রচারও হচ্ছে না। আমাদের এলাকায়, আমাদের যুবাদের মাঠে সাপোর্ট দিতে পারবো না, এটা মেনে নিতে পারছি না।’
রাজশাহী শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামের ভেন্যু ম্যানেজার আরেফিন ইসলাম বলেন, ‘মিডিয়া ও সাপোর্টিং স্টাফ ছাড়া মাঠে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। বিসিবির উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’
এদিকে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকে সুবিধা করতে পারছিল না পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৪১ ওভারে ১৫৪ রান সংগ্রহ করতেই অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তানের যুবারা।
সাখাওয়াত হোসেন/আইএইচএস/