দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান শিশুহত্যা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রামের শিশুসাহিত্যিক, সংগঠক, সংস্কৃতিকর্মী, সাংবাদিক ও উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। সর্বস্তরের শিশুসাহিত্যিক, সংগঠক ও সাংস্কৃতিক কর্মীর ব্যানারে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় নগরীর প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘বাঙালি জাতির ইতিহাস মানবিকতা ও সহনশীলতার ইতিহাস। এ জাতি বহিঃশত্রুর দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে, প্রতিরোধ গড়েছে, কিন্তু অন্য দেশে আগ্রাসন চালায়নি। একটি শিশু শুধু তার মা-বাবার নয়, গোটা সমাজের মমতায় বেড়ে উঠেছে। কিন্তু আজ আমরা আমাদের মূল্যবোধ হারিয়ে অবক্ষয়ের দিকে যাচ্ছি। মানবিকতা হারিয়ে স্বার্থবাদী অসুস্থ মানসিকতার বলি হচ্ছে অবুঝ শিশু। রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, প্রতিবেশী, এমনকি মা-বাবার কাছেও শিশুদের নিরাপত্তা নেই। শিশুহত্যা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন ও দ্রুত বিচার না হওয়ায় প্রতিনিয়ত সহজ টার্গেটে পরিণত হচ্ছে জাতির ভবিষ্যৎ।’মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপিকা আনোয়ারা আলম, শিশুসাহিত্যিক ও সাংবাদিক রাশেদ রউফ, কবি ও সাংবাদিক কামরুল হাসান বাদল, শিশুসাহিত্যিক উৎপল কান্তি বড়ুয়া, আ ফ ম মোদাচ্ছের আলী, এমরান চৌধুরী, জসিম মেহবুব, আবুল কালাম বেলাল, রমজান আলী মামুন, কবি সাইদুল আরেফীন, খেলাঘর মহানগর সংগঠক কবি আশীষ সেন, খেলাঘর মহানগরী সংগঠক অধ্যাপিকা রোজী সেন, খেলাঘর সংগঠক জাহিদ হোসেন, উদীচী সংগঠক সুনীল ধর, শিক্ষিকা সালমা জাহান মিলি, শিশুসংগঠক সৈয়দা শাহানা বেগম, কেন্দ্রীয় যুবলীগ সদস্য জাহেদুর রহমান সোহেল, যুব ইউনিয়ন নেতা হাবিবুল হক বিপ্লব ও তরুণ লেখক সংঘ সংগঠক ইলিয়াস বাবর প্রমুখ।বক্তারা শিশুহত্যা ও নির্যাতন বন্ধে কঠোর আইন ও দ্রুত বিচারের পাশাপাশি বিদেশি সিরিয়ালের মাধ্যমে অসুস্থ চিন্তার প্রসার ঘটানো টিভি চ্যানেলগুলো বন্ধের দাবি জানান।এছাড়াও সরকারের পাশাপাশি শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, সাংবাদিক, ধর্মগুরুসহ সমাজের প্রত্যেককে শিশুবান্ধব সমাজ পুনরুদ্ধারে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।জীবন মুছা/বিএ