দেশজুড়ে

চেম্বারে রোগীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে

খুলনায় আবারো এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কলেজছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. বিপ্লব কুমার দাস পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডা. বিপ্লব কুমার দাস খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও সহযোগী অধ্যাপক।

মঙ্গলবার (৬ জুন) বিকেলে খুলনা মহানগরীর কেডিএ এভিনিউয়ের শেখপাড়া এলাকার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এই ঘটনা ঘটে। রাতেই যৌন নির্যাতনের শিকার তরুণীকে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার এসআই শান্তনু পুলিশ হেফাজতে নেন। এ সময় অভিযুক্ত চিকিৎসক পলাতক ছিলেন বলে জানান তিনি।

ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী (১৮) জানিয়েছেন, মাইগ্রেনের সমস্যায় পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি এলাকা থেকে কিছুদিন আগে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডা. বিপ্লব কুমার দাসের চেম্বারে যান। তিনি শেখপাড়া এলাকার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেম্বারে হাজার টাকা ফিসে দেখে এমআরআইসহ কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেন।

মঙ্গলবার সকালে ছোট বোনকে নিয়ে পিরোজপুর স্বরূপকাটি থেকে খুলনায় রিপোর্ট দেখাতে আসেন ওই কলেজছাত্রী। বিকেলে ডাক্তারের চেম্বারে রিপোর্ট দেখাতে গেলে কলেজছাত্রীকে (১৮) চেম্বারে একা রেখে সবাইকে বাইরে বের করে দেন চিকিৎসক। এরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষার অযুহাতে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। একপর্যায়ে তাকে যৌন নির্যাতন করা হয়। পরে ডাক্তারের রুম থেকে বেরিয়ে অঝরে কাঁদতে থাকেন কলেজছাত্রী। এতে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন।

ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মচারীরা বিষয়টি তখনই ধামাচাপা দিয়ে বলতে থাকেন, ‘রিপোর্ট খারাপ এসেছে, সেই ভয়ে রোগী কান্নাকাটি করছেন।’ পরে ক্ষিপ্ত হয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কলেজছাত্রী প্রকৃত বিষয়টি উপস্থিত সবাইকে বলেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী সোনাডাঙ্গা মডেল থানার এসআই শান্তনু বলেন, প্রাথমিকভাবে কলেজছাত্রীর অভিযোগ শুনেছি। থানায় নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসব বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত চিকিৎসক বিপ্লব কুমার দাসের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়।

এর আগে একই এলাকার অপর একটি ক্লিনিকের চিকিৎসক রোগীর সঙ্গে অসদাচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় তোলপাড় হয় সারা দেশে।

আলমগীর হান্নান/এফএ/জিকেএস