দেশজুড়ে

বৈকালিক চেম্বারে রোগীর অপেক্ষায় চিকিৎসক

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে শুরু হয়েছে বৈকালিক ‘প্রাইভেট চেম্বার’। তবে প্রচারণার অভাবে উদ্বোধনের প্রথমদিনে রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র পাঁচজন।

মঙ্গলবার (১৩ জুন) দুপুরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যশোর জেনারেল হাসপাতালসহ ১২৬টি হাসপাতালে বৈকালিক ‘প্রাইভেট চেম্বার’ উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এ সময় যশোর হাসপাতালের সভাকক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশিদসহ হাসপাতালের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন। যশোর জেনারেল হাসপাতালে সপ্তাহে ছয়দিন (সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত) বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গাইনি, মেডিসিন ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ তিন চিকিৎসক রোগী দেখবেন। এ সময়ে তারা সরকার নির্ধারিত চিকিৎসকের সর্বোচ্চ ফি ধরা হয়েছে ২০০ টাকা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ফি ৪০০ টাকা।

আরও পড়ুন: যশোরে এক আমের ওজন ৫ কেজি

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালে পৃথক তিনটি কক্ষে তিন চিকিৎসক রোগীর অপেক্ষায় রয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তেমন প্রচার না থাকায় প্রথম দিনে হাসপাতালগুলোতে সেবা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা কম ছিল। উদ্বোধনের প্রথম দিনে পাঁচজন চিকিৎসা নিয়েছেন।

যশোর সদরের চুড়ামণকাটি থেকে আসা রাশেদা খাতুন (৩৫) বলেন, ‘আমি জানতাম না যে সদরে হাসপাতালে স্বল্প মূল্যে বিকালে চিকিৎসা দেওয়া শুরু হয়েছে। পা ভেঙ্গে গেছে অনেকদিন আগে। স্থানীয় একটা ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করাচ্ছি, তবে ব্যথা যাচ্ছে না। সদর হাসপাতালের পাশের একটি ক্লিনিকে ডাক্তার দেখাতে এসেছি। এক হাজার টাকা ফি। ক্লিনিকে কম নেওয়ার কথা বলতেই তারা বলেছে আমাদের এখানে কম নেই। কম দিয়ে ডাক্তার দেখাতে চাইলে সদর হাসপাতালে যান। তারপর সদর হাসপাতালে এসে দুইশ’ টাকা দিয়ে ডাক্তার দেখিয়েছি। ধীরে সুস্থে আমাকে ডাক্তার অনেকক্ষণ দেখেছে। সকালের মতো বিকালেও সরকারি হাসপাতালগুলোতে চেম্বারে দেখালে আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য ভালো।

নাম না প্রকাশে হাসপাতালের বৈকালিক চেম্বারের এক চিকিৎসক বলেন, ‘বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অল্প ফি নিয়ে হাসপাতালে রোগী দেখছেন, প্রথম দিনে এটা অনেকে জানেন না। তেমন প্রচারও ছিল না। তাই রোগীর আগমন কম ছিল। প্রচার হলে ভবিষ্যতে রোগীর সংখ্যা বাড়বে।

আরও পড়ুন: শার্শায় ছড়াচ্ছে গরুর লাম্পি রোগ, দিশেহারা খামারিরা

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘বৈকালিক চেম্বার মোটামুটি সাড়া ফেলেছে। যশোরে প্রথমদিন পাঁচজন সেবা নিয়েছেন। সপ্তাহে ৬দিন গাইনি, মেডিসিন ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ তিন চিকিৎসক রোগী দেখবেন। এটা সরকারের নানন্দিক উদ্যোগ। আশা করছি আমাদের হাসপাতালেও সাড়া ফেলবে এবং দিন দিন রোগীর সংখ্যা বাড়বে। বৈকালিক চেম্বারে এক্সরে, সিটিস্ক্যান চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুতই প্যাথলজিক্যাল টেস্টও শুরু হবে। সরকারি মূল্যে সব সুবিধা দিয়ে বৈকালিক চেম্বারকে রোগীবান্ধব করে তোলা হবে।

মিলন রহমান/জেএস/এএসএম