একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যশোরের বাঘারপাড়ার আমজাদ হোসেন মোল্লাসহ চারজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (২৫ জুন) বিচারকের এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। একইসঙ্গে তারা দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। তবে তারা তাদের নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথাও প্রকাশ করেছেন।
তাদের দাবি, আমজাদ মোল্লার স্থানীয় সঙ্গীরা এখন আরও বেপরোয়া হয়ে তাদের ও তাদের পরিবারকে হুমকি ধামকি দিচ্ছেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রজব আলী বিশ্বাসের ছেলে খলিলুর রহমান ওরফে খোকন বিশ্বাস বলেন, এতবছর পর বাবা হত্যার বিচার পেয়ে আমি খুশি। যাদের নিরলস পরিশ্রমে আজকের এ রায় তাদের জন্য দোয়া করি। মামলার পর থেকে বারবার আমজাদ মোল্লার বাহিনীর হামলা মামলার শিকার হয়েছি। দিনের পর দিন পালিয়ে থেকেছি। বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। আজ আমজাদ মোল্লার ফাঁসির রায় হয়েছে এখন আমরা আরও ভয়ে আছি। কখন আবার হামলা করে তার বাহিনী।
আমজাদ মোল্লার হাতে নিহত ডা. নওফেল উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে ডা. এবিএম রুহুল আমিন রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আজ তো রায় হলো। এ রায়ের ফলে আমরা এতদিন পিতা হারানোর যে যন্ত্রণা নিয়ে কেঁদে ফিরেছি তার সমাপ্তি হলেও এখনো নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছি। মামলার পর থেকেই রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা হামলা-মামলা করে চলেছে আমাদের ওপর। এজন্য বারবার প্রশাসনের কাছে ধরনাও দিয়েছি। এখন যদি দ্রুত রায় কার্যকর না হয় তাহলে আবারো হামলা-মামলার শিকার হতে হবে।
আরও পড়ুন: মানবতাবিরোধী অপরাধ, যশোরের আমজাদ মোল্লাসহ চারজনের মৃত্যুদণ্ড
রাজাকার আমজাদ মোল্লা ও তার সহযোগীদের হাতে নিহত উত্তর চাঁদপুর গ্রামের মো. ময়েনউদ্দিন ওরফে ময়নার বড় ভাই মামলার অন্যতম সাক্ষী আলাউদ্দীন আলী বলেন, আল্লাহর হাজার শোকর যে আমরা এতদিন যে দাবি করে এসেছি তা সত্যি প্রমাণিত হয়েছে। আমজাদ মোল্লাসহ তার বাহিনীর সদস্যদের ফাঁসির রায় দিয়েছেন আদালত। আমরা এ রায়ে যারপরনাই খুশি। কিন্তু একই সঙ্গে এ ভয়ে আছি মামলার পর থেকে যেভাবে হামলা-মামলার শিকার হয়ে আসছি তারই ধারাবাহিকতা আজও চলছে। এখনো হুমকি ধামকি দিচ্ছে রাজাকার বাহিনী। প্রশাসন যেন আমাদের পরিবারের নিরাপত্তায় দ্রুত ব্যবস্থা নেন। তা না হলে হয়তো ভাই হত্যার বিচার কার্যকর হওয়ার আগেই রাজাকার বাহিনীর হাতে নিজেরও প্রাণ হারাতে হবে।
এ ব্যাপারে বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদৎ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তার জন্য সবধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাদের নিরাপত্তার জন্য প্রেমচারা গ্রামে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া যেকোনো ধরনের প্রয়োজন আমাকে জানালে সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে আমি নিজে ওই এলাকায় গিয়ে ব্যবস্থা নেবো।
মিলন রহমান/এসজে/জেআইএম