পবিত্র ঈদুল আজহা তথা কোরবানি ঈদ সামনে রেখে জমে উঠেছে নারায়ণগঞ্জের হাটগুলো। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে স্থল ও জলপথে হাটগুলোতে গরু আসতে শুরু করেছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনায় হাটগুলো মুখর হয়ে উঠছে। এখনো ঈদের কয়েকদিন বাকি থাকায় হাটে গরু আসা শেষ হয়নি। কোরবানির আগেরদিন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু আসা অব্যাহত থাকবে।
সরেজমিনে কয়েকটি হাট ঘুরে দেখা যায়, হাটগুলোতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে গরু আসতে শুরু করেছে। খামারিরা নানা জাতের গরু এনে হাটে তুলেছেন। ক্রেতারাও আসতে শুরু করেছেন হাটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত বছর নারায়ণগঞ্জে ১ লাখ ৫৯ হাজার পশু কোরবানি হয়েছিল। এবছর জেলায় প্রায় চার হাজার খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে এক লাখ পশু। বাকি ৬০ হাজার পশুর যোগান আসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে।
সেইসঙ্গে এবারের কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলায় স্থায়ী-অস্থায়ী সবমিলিয়ে প্রায় ৭৫টি হাট বসছে। আর এসব হাটে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু আসতে শুরু করছে।
এদিকে, নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৩৩টি খামারে অনলাইনে গরু বিক্রি হচ্ছে। আর কোরবানিদাতা চাইলে পশু জবাই করে তার বাড়িতে মাংস পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে এই খামারগুলোতে। প্রতিদিনই কোরবানিদাতারা অনলাইন খামারে পশু দেখছেন ও বুকিং দিচ্ছেন।
অনলাইনে বিক্রি প্রসঙ্গে আমিষ এগ্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউর রহমান বিল্লাল বলেন, আমাদের বেশিরভাগ গরু অনলাইনেই বিক্রি হয়ে থাকে। অন্য বছরের মতো এবারও আমরা ভালো সাড়া পাচ্ছি। গরুর পাশাপাশি ছাগলও অনলাইনে বিক্রি হয়ে থাকে। এরইমধ্যে অনেকেই বুকিং দিয়ে রেখেছেন। আশা করছি, এবারও আমাদের টার্গেট পূরণ হয়ে যাবে।
ফতুল্লার এলাকার একটি হাটে গরু নিয়ে এসেছেন খামারি হবি। তিনি বলেন, আমি পাবনা থেকে ১৬টি গরু নিয়ে আসছি। আমার এখানে সর্বনিম্ন দুই লাখ টাকা থেকে শুরু করে পাঁচ লাখ টাকা দামের গরু রয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও গরু নিয়ে এসেছি। আশা করছি, এবারও হয়তো ভালো দামেই গরু বিক্রি করতে পারবো।
তিনি আরও বলেন, তবে এখনো সেভাবে ক্রেতারা আসতে শুরু করেননি। ক্রেতারা আসলেও গরুর দরদাম করছেন। কিন্তু এখনই কিনছেন না। ঈদের আগেরদিনই সাধারণত ক্রেতারা গরু কিনে থাকেন।
হাটে আসা জয়নাল উদ্দিন নামে এক ক্রেতার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ঈদের এখনো কয়েকদিন বাকি আছে। আপাতত গরুর দরদাম দেখছি সেইসঙ্গে পছন্দ করে রাখছি। ঈদের এক দুইদিন আগে কিনবো।
ফতুল্লা ডিআইটি হাটের ইজারাদারের প্রতিনিধি মেহেদী হাসান জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিবছরই আমাদের হাটে ভালো সাড়া পেয়ে থাকি। এবারও গরু আসতে শুরু করেছে। এখনো ঈদের কয়েকদিন বাকি। ফলে গরু আসা শেষ হয়নি। আশা করছি, এবারও প্রত্যাশা অনুযায়ী গরু আসবে। আমাদের এখানে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সব সুবিধাই নিশ্চিত করেছি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বাসনা আখতার জাগো নিউজকে বলেন, নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি হাটে আমাদের ভেটেরিনারি টিম রয়েছে। সেইসঙ্গে কোরবানির জন্য এবার পর্যাপ্ত পরিমাণে পশু রয়েছে। ক্রেতাদের চাহিদা ও সুবিধার কথা চিন্তা করে হাটের পাশাপাশি অনলাইনে গরু কেনাবেচার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাটগুলোতে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সরকারি নিয়ম-কানুন মেনে হাট পরিচালনা করতে হবে। কেউ গরু নিয়ে টানাটানি করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকেই কোনোরকমের ছাড় দেওয়া হবে না।
মোবাশ্বির শ্রাবণ/এমআরআর/এএসএম