সারাদেশে উদযাপন হচ্ছে মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। মহান আল্লাহর অপার অনুগ্রহ লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সামর্থ্য অনুয়ায়ী পশু কোরবানি করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) ঈদের দিন সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো রাজধানী ঢাকায়ও থেমে থেমে বৃষ্টি ছিল। তবে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় শেষে যথারীতি পশু কোরবানি দেন মুসল্লিরা। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই চলে কোরবানির মাংস কাটার কাজও।
রাজধানী ঢাকায় সকালে ঈদের নামাজ পড়ে পশু কোরবানি দিয়েছেন অনেকে। এরপর শুরু হয় পশুর মাংস কাটা। ঢাকায় কোরবানিদাতাদের অনেকে দুপুরের পর পরিবার-পরিজনের জন্য কোরবানির মাংস নিয়ে রওনা হয়েছেন গ্রামের বাড়ির পথে। যাদের অনেকে প্রতিবছর কোরবানি করেন ঢাকায়, কিন্তু ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন গ্রামে থাকা পরিবারের সঙ্গে।
আরও পড়ুন: কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ শুরু
বিকেলে ঢাকার সড়কগুলোতে বিভিন্ন গন্তব্যমুখী বেশিরভাগ মানুষের হাতে দেখা গেছে কোরবানির মাংস। যাদের অনেকে ঢাকায় কোরবানি দিয়ে এখন মাংস নিয়ে গ্রামে যাচ্ছেন। তাদের কেউ কেউ মাংস সেদ্ধ করে, কেউবা কাঁচা মাংস প্যাকেট করে নিয়ে যাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: ঢাকায় পশুর বর্জ্য অপসারণে প্রস্তুত ১৯ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী
সদরঘাট থেকে লঞ্চে করে বরিশাল যাবেন যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ঢাকায় কয়েকজন মিলে কোরবানি করেছি, আমি একটি ভাগ নিয়েছি। সেখান থেকে গরিব ও আত্মীয়দের মাঝে বিলিয়ে কিছু অংশ ঢাকায় স্ত্রী-সন্তানদের জন্য রেখেছি। বাকিটুকু গ্রামে থাকা মা ও ভাইয়ের জন্য নিয়ে যাচ্ছি। আমি প্রতি বছরই ঈদের দিন বাড়ি যাই। লঞ্চে চলাচলে সুবিধা তাই লঞ্চেই যাচ্ছি। কারণ, লঞ্চে ফ্রিজ আছে, টাকা দিলে ফ্রিজে মাংসটা নেওয়া যায়। এতে মাংসটা ভালো থাকে।
মৌসুমি কসাই আবুল মিয়া বলেন, আমার বাড়ি মাদারীপুর। কোরবানির ঈদে দু-তিনডা গরু বানানের কাম লই। তাই ঈদের দিন বিকেলে মাংস লইয়া একবারে বাড়ি যাই। আজকে সকাল থেইকা তাড়াতাড়ি কাম করছি। তিনটার মধ্যেই কাম শ্যাষ। এহন বাড়ি যাই, সবাইরে নিয়া কোরবানির মাংস খামু।
আরও পড়ুন: কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ১০ লাখ পলিব্যাগ
আইএইচআর/এমকেআর/জিকেএস