এক ফার্মেসির অর্ডার করা ওষুধ অন্য ফার্মেসিতে বিক্রয় নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে গলা কেটে বিক্রয় প্রতিনিধিকে (এসআর) জবাই করে হত্যা করেছে একই কোম্পানির মেডিকেল প্রমোশন কর্মকর্তা (এমপিও)।
শনিবার (১৫ জুলাই) দিনগত রাত সোয়া ১০টার দিকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
রোববার (১৬ জুলাই) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) জসিম উদ্দিন চৌধুরী।
নিহতের নাম এরশাদ আলী (৩২)। তিনি কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার সুতাইল এলাকার সফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে বিক্রয় প্রতিনিধি (এসআর) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযুক্ত আশিক বিল্লাহ সুমন (৩৫) ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর ছনধরা গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে। তিনিও হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির মেডিকেল প্রমোশন কর্মকর্তা (এমপিও) ছিলেন।
আরও পড়ুন: বিক্রয় প্রতিনিধিকে হত্যার অভিযোগ
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) জসিম জানান, শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে চকরিয়া থানায় ফোনে কেউ একজন জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতরে এক ব্যক্তির জবাই করা মরদেহ পড়ে আছে। খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে ঘটনায় জড়িতকে গ্রেফতারে অভিযান চালায়।
তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ঘটনাস্থলের পাশ থেকে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আশিক বিল্লাহ সুমনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন স্বীকার করে তিনি তার সহকর্মীকে খুন করেছেন।
সুমন জানায়, ওষুধ বিক্রি নিয়ে উভয়ের মধ্যে বিরোধ ছিল। গত ১৫ জুলাই সুমন চকরিয়ার আল রাজি হসপিটাল ফার্মেসির নামে ১৯ হাজার ২৩০ টাকার একটি ভাউচার করে আনা ওষুধ বদরখালীর আল-আমিন ফার্মেসি ও নূর আহাম্মদিয়া ফার্মেসিতে বিক্রয় করেন। বিষয়টি এসআর (ভিকটিম) এরশাদ আলী জানতে পেরে কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবে বলায় সুমন তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা নেন।
পরিকল্পনা মতো চকরিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনের দোকান থেকে একটি নতুন ছোরা কিনে কৌশলে এরশাদকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতর মসজিদের দক্ষিণ পাশে নিয়া যান। সেখানে তার বিষয়টি কোম্পানির ঊর্ধ্বতনদের না জানাতে বললে উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে সুমন তার প্যান্টের পকেটে থাকা ছুরি বের করে এরশাদের গলায় আঘাত করেন। এরশাদ দৌড়ে ১৫ ফুট দূরে ঘাসের ওপর পড়ে যায়। তখন সুমন হাটু দিয়ে আঘাত করে এরশাদকে মাটিতে শুইয়ে পুনরায় ছুরি দিয়ে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে ভিকটিমের কাঁধের ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে দেওয়াল ডিঙিয়ে পালিয়ে যান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, ঘটনাস্থলের আনুমানিক ৫০০ মিটার দূরে সুমনের ভাড়া বাসায় গিয়ে রক্তাক্ত জামা কাপড় পরিবর্তন করে ঘটনাস্থলে রেখে যাওয়া মোটরসাইকেল নেওয়ার জন্য আসলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ মাহমুদ জানান, আটক আশিক বিল্লালকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়।
সায়ীদ আলমগীর/আরএইচ/জিকেএস