কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠানে ‘দেশে দুর্নীতি হচ্ছে দেখেই উন্নতি হচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন। গণমাধ্যমে বক্তব্যটি প্রকাশ করায় দৈনিক যায়যায় দিনের (কুবি) প্রতিনিধি ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ইকবাল মনোয়ারকে সাময়িক বহিষ্কারের আদেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বুধবার (২ আগস্ট) রাতে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. আমিরুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বলা হয়, উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈনের বক্তব্যকে বিকৃত করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তমূলক মিথ্যা তথ্য প্রচার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। পরিপ্রেক্ষিতে প্রক্টরিয়াল বডির প্রাথমিক প্রতিবেদন ও সুপারিশে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের সভায় অনুমোদিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইকবাল মনোয়ারকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হলো।
যা বললেন ভিসিএ বিষয়ে উপাচার্যের মন্তব্য জানতে জাগো নিউজের কুমিল্লা প্রতিনিধি বুধবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ফোন দিলে রিসিভ করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, কথার ফাঁকে উদাহরণ হিসেবে অনেক কিছুই বলেছি। বলেছি যে, দুর্নীতি করলে অর্থনীতির উন্নতি ব্যাহত হয়। আমি বলেছি এরকম একটা ধারণা আছে। কিন্তু তুমি ছাত্র হিসেবে প্রশ্ন করবা, তোমার যদি ক্রিটিকাল থিংকিং থাকে ভালো- যে এটাতো ঠিক না। তুমি প্রশ্ন করবা আসলেই কি দুর্নীতি করলে অর্থনীতি বাধাগ্রস্ত হয়। আসলে দুর্নীতির কারণে কোনো দেশ পিছিয়ে পড়ছে কি না। এই রকম আরও অনেক উদাহরণ তুলে ধরেছি। তবে এখানে বাংলাদেশের কথা আমি কখনোই বলি নাই।
কিন্তু ইকবাল মনোয়ার নিউজ করেছে, ‘দেশে দুর্নীতি হচ্ছে বলেই বাংলাদেশে উন্নতি হচ্ছে’। যা আমি বলি নাই। এর আগেও সে আমার বিরুদ্ধে অনেক নিউজ করেছে। মার্কেটিং বিভাগের অনুষ্ঠানে আমার বক্তব্য ছিল ৫৬ মিনিট। সে খণ্ডিত অংশ পত্রিকায় প্রকাশ করেছে।
তিনি বলেন, আপনিতো সংবাদিক? আপনি বলেন, এটা কি সাংবাদিকের ভাষায় পড়ে, খণ্ডিত অংশ প্রকাশ করা? নিউজ প্রকাশের পর আমি তাদের সাংবাদিক সমিতিতে কথা বলার পর নিউজটি ডিলিট করেছে। কিন্তু এরপরও সে বিভিন্ন গ্রুপে হেডলাইন শেয়ার করে ভাইরাল করেছে, যা ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এতে আমার শুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।
তবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈনের কাছে তার পুরো বক্তব্যের রেকর্ড চাইলে তিনি অডিও-ভিডিও কোনো রেকর্ড দিতে পারেননি।
যা বললেন সাংবাদিক মনোয়ারসাংবাদিক মোহাম্মদ ইকবাল মনোয়ার জাগো নিউজকে বলেন, আমাকে রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে কল দেওয়া হলে আমি গিয়ে আমার বহিষ্কারাদেশের চিঠি নিয়ে আসি। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো আইন না মেনেই আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমি তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করেছি।
রেজিস্ট্রারের বক্তব্যকুবি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) আমিরুল হক চৌধুরী বলেন, প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। কোন আইনে বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়েছে, জিজ্ঞাসা করা হলে নিয়মের কোনো ব্যত্যয় হয়নি দাবি করে উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে ফোন কেটে দেন তিনি।
প্রক্টরিয়াল বডির সুপারিশের বিষয়ে প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, আমরা প্রাথমিক প্রতিবেদন দিয়েছি। তবে আমরা কোনো সাংবাদিককে বহিষ্কারাদেশের জন্য সুপারিশ করিনি। আমরা শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারাদেশ দিয়েছি।
এদিকে, ইকবাল মনোয়ারকে বহিষ্কারের প্রতিবাদ জানিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মুহা. মহিউদ্দিন মাহি জাগো নিউজকে বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হয়। প্রশাসন বহিষ্কারাদেশ দিয়ে তাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।
জাহিদ পাটোয়ারী/এফএ/জিকেএস