অভিবাসী শ্রমিকদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সিআইডি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক কর্মশালার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি। সিআইডির ঊর্ধ্বতন দুইশো কর্মকর্তা এ কর্মশালায় অংশ নেন।
বুধবার (৯ আগস্ট) রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
সুইজারল্যান্ড সরকারের অর্থায়নে হেলভেটাস বাংলাদেশের সহায়তায় অভিবাসন কর্মীদের নিরাপদ অভিবাসন ও ন্যায়বিচারে অভিগম্যতা বিষয়ক দিনব্যাপী এই কর্মশালাটি উদ্বোধন করেন সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী।
কর্মশালায় নিরাপদ অভিবাসন, অভিবাসীদের আইনি সহায়তা প্রাপ্তিতে অভিগম্যতা নিশ্চিতকরণ, বিদেশে অভিবাসীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং মানব চোরাচালান প্রতিরোধ সংক্রান্তে সাম্প্রতিক অবস্থা ও প্রতিরোধে পুলিশের ভূমিকা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। মানবপাচারকারীদের চিহ্নিতকরণ এবং আইনের আওতায় এনে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জোরালো উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
সিআইডি প্রধান কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সবাইকে স্বাগত জানান এবং নিরাপদ অভিবাসন ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে ভূমিকা রাখার জন্য বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতিকে ধন্যবাদ দেন। তিনি নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে সাধারণ জনগণকে সচেতন করা এবং অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ে কর্মরত বেসরকারি সংস্থাসমূহকে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে মানবপাচার সংক্রান্ত মামলা এবং অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে সিআইডিতে একটি মানবপাচার মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। যার ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কর্মশালায় ভুক্তোভোগী অভিবাসন শ্রমিকদের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকারের ভূমিকার প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, বিভিন্ন গন্তব্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে অভিবাসন সংক্রান্ত অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব। এ কর্মশালায় নিরাপদ অভিবাসনের জন্য কতগুলো সুপারিশ উঠে আসে। যেখানে অভিবাসন কর্মীদের নিরাপদ অভিবাসন ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে পুলিশ তথা সিআইডির ভূমিকার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এই সুপারিশমালা বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সিআইডি প্রধান বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালায় বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোবায়দা পারভিন, সিআইডির ডিআইজি (এইচআরএম) মো. হাবিবুর রহমান, ডিআইজি (অর্গানাইজড ক্রাইম) মো. ইমাম হোসেন, ডিআইজি (ঢাকা ও ময়মনসিংহ) শ্যামল কুমার নাথ, ডিআইজি (ফরেনসিক) মো. আনিসুর রহমান, ডিআইজি (চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ) শেখ নাজমুল আলম, ডিআইজি (খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও রংপুর) মাসুদ রানা, হেলভেটাস বাংলাদেশের প্রকল্প পরিচালক আবুল বাশারসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
আরএসএম/এমআরএম/এএসএম