চট্টগ্রাম সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মিজানুর রহমানকে আসামি করে এক মামলার চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের নাগরিক সাজিয়ে জন্মনিবন্ধন, ভোটার আইডি ও পাসপোর্ট করতে সহযোগিতা করার অভিযোগে এ মামলা হয়।
রোববার (২৭ আগস্ট) কমিশন এ চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মামলায় পুলিশ পরিদর্শক মিজানুর রহমান ছাড়াও অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে (নোটারি পাবলিক) আসামি করা হয়েছে। দ্রুত সময়ে এটি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জমা দেওয়া হবে।
অপরদিকে এই মামলা থেকে ৯ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২১ সালের ২৫ মার্চ দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এ পাঁচ পুলিশ সদস্য, সাত পৌর কাউন্সিলর, দুই ইউপি চেয়ারম্যান, দুই ইউপি সচিব ও এক আইনজীবীসহ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধন, ভোটার ও পাসপোর্ট করতে সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব মামলার অন্যতম আসামি মিজানুর রহমান।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা ডিএসবি অফিসে তদন্তের জন্য পাঠানো আবেদন তদন্ত না করেই পাসপোর্ট অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশি হিসেবে পাসপোর্ট পেয়ে যান রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট পেতে পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতারা সরাসরি সম্পৃক্ত।
এর আগে ২০২১ সালের ১৭ জুন কক্সবাজারে ১৩ জন রোহিঙ্গাকে জালিয়াতির মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট প্রদানে জড়িত থাকার দায়ে তিন পুলিশ পরিদর্শকসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
মামলার এজাহারে বলা হয়, কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী ১৩ রোহিঙ্গা বিভিন্ন সময়ে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে আইডি কার্ড তৈরি করেছেন। এসব আইডি কার্ড দিয়ে পাসপোর্টও করেছেন তারা। ওই পাসপোর্ট দিয়ে এরই মধ্যে পাঁচজন সৌদি আরবে চলে গেছেন। মামলার আসামি রোহিঙ্গা নাগরিক আবদুল ওয়ারেস দেশে আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন।
এসএম/কেএসআর