বিদ্যমান বাংলা সনের পরিবর্তে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় হবে অর্থবছরে (জুলাই-জুন), এমন বিধান যুক্ত করে ‘ভূমি উন্নয়ন কর বিল ২০২৩’ পাস হয়েছে।
রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) সংসদে বিলটি পাস হয়। এর আগে বিলের ওপর বিরোধীদলের সংসদের সদস্যদের আনা জনমত যাচাই-বাছাইয়ে কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কণ্ঠ ভোটে নিষ্পত্তি করা হয়। ১৯৭৬ সালের ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ট্যাক্স অর্ডিন্যান্স রদ করে নতুন আইনটি পাস করা হয়। তবে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান- এই তিন পার্বত্য জেলায় এই আইন কার্যকর হবে না।
পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, একনাগাড়ে তিন বছর ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ না করা হলে প্রথম থেকে তৃতীয় বছর পর্যন্ত বার্ষিক ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে জরিমানা হবে। তৃতীয় বছর শেষে বকেয়া ভূমি উন্নয়ন কর সার্টিফিকেট মামলা করে আদায় করা হবে।
বিলে বলা হয়েছে, কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তি বা পরিবারভিত্তিক কৃষিজমির মোট পরিমাণ ৮ দশমিক ২৫ একর বা ২৫ বিঘা পর্যন্ত হলে ভূমি উন্নয়ন কর দিতে হবে না। তবে এই জমির পরিমাণ ২৫ বিঘার বেশি হলে সম্পূর্ণ কৃষিজমির ওপর ভূমি উন্নয়ন কর দিতে হবে। এছাড়া বর্তমানে বাংলা সন (বৈশাখ–চৈত্র) হিসাবে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করা হয়। পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, ভূমি উন্নয়ন কর আদায় হবে জুলাই–জুন অর্থবছর হিসাবে। প্রতি বছর জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুনের মধ্যে ভূমি উন্নয়ন কর জরিমানা ছাড়া দেওয়া যাবে।
আরও পড়ুন>> আইনি কাঠামোয় আসছে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের রিক্রুটিং প্রক্রিয়া)
বিলে বলা হয়েছে, আখ ও লবণ চাষের ভূমি এবং কৃষকের পুকুরও (বাণিজ্যিক মৎস্য চাষ ব্যতীত) মওকুফের আওতায় থাকবে। কৃষিজমি পল্লি এলাকা বা পৌর এলাকা বা যেকোনো স্থানে অবস্থিত হোক, সব ক্ষেত্রে অভিন্ন ভূমি উন্নয়ন কর হার ও শর্ত প্রযোজ্য হবে। সরকার যেকোনো ব্যক্তি বা শ্রেণির ব্যক্তিবর্গ বা সংস্থার উন্নয়ন কর মওকুফ করতে পারবে।
বিলে আরও বলা হয়েছে, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা প্রতি বছর জুলাইয়ের মধ্যে এলাকা পরিদর্শন করে ভূমির ব্যবহার ভিত্তিক অবস্থা বিবেচনায় নির্ধারিত ফরমে সব মৌজার ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণ করে, তা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে পাঠাবেন। সহকারী কমিশনার তা পরীক্ষা করে অনুমোদন করবেন। ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করা যাবে। ইলেকট্রনিক পদ্ধতি সারাদেশে পূর্ণরুপে প্রবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত এই পদ্ধতির পাশাপাশি প্রচলিত পদ্ধতিতে যেকোনো ব্যাংকের মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের ব্যবস্থা নিতে পারবে।
আইএইচআর/ইএ/জিকেএস