জাতীয়

দাদন ব্যবসায়ীদের উচ্চ সুদের কারণে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে

ঝিনাইদহে ঋণের চাপে এক চা দোকানির ‘আত্মহত্যা’র ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। সোমবার (১১ সেপ্টেম্বরের) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানায় কমিশন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানীতে ঋণের চাপে সিরাজুল ইসলাম সুরুজ (৫৫) নামের এক চা দোকানি আত্মহত্যা করেছেন। স্থানীয়রা জানায়, সিরাজুল ইসলাম সুরুজ দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে শ্রমিকের কাজ করতেন। কয়েক বছর আগে দেশে ফিরে হলিধানী এলাকায় একটি চায়ের দোকান করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। হঠাৎ করে তার দুই ছেলেকে বিদেশ পাঠাতে গিয়ে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন।

আরও পড়ুন: ৫০ হাজার টাকার সুদ ৪ লাখ টাকা

মৃত সিরাজুল ইসলাম সুরুজের পকেটে একটি চিরকুট পাওয়া যায়, যাতে লেখা ছিল- ‘সুদখোরদের অত্যাচারে বাঁচতে পারলাম না। আমার জায়গা-জমি, বাড়ি সব বিক্রি করে দিয়েছি। একেকজনের কাছ থেকে যে টাকা নেওয়া, তার সাত-আট, এমনকি দশ গুণ টাকা দিয়েও রেহাই দিলো না তারা। কেউ কেস করেছেন, কেউ অপমান করেছেন। আমি আর সহ্য করতে পারছি না, তাই বিদায় নিলাম। আমার জানাজা হবে কি না জানি না। যদি হয়, তখন সব সুদখোর টাকা চাইতে এলে আমার শরীরটাকে কেটে ওদের দিয়ে দেবেন। সুদখোরদের বিচার আল্লাহ করবে। সুদখোরদের নাম বললাম না, কিন্তু তারা সবাই টাকার জন্য আসবে। তখন বুঝতে পারবেন, তারা কারা। আমি ক্ষমার অযোগ্য, তবু ক্ষমা করে দেবেন।

আরও পড়ুন: পাওনা টাকা চেয়ে নির্যাতনের শিকার, টিকটকে বিচার চেয়ে আত্মহত্যা

এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, দাদন ব্যবসায়ীদের উচ্চ সুদহারের ঋণ শোধ করতে না পেরে চাপের কারণে এ রকম আত্মহত্যার ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।

তিনি আরও বলেন, উচ্চহারে সুদসহ ঋণের ফাঁদ তৈরি করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার মাধ্যমে মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। এ ধরনের হৃদয়বিদারক ও অমানবিক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি হওয়া সমীচীন বলে কমিশন মনে করে।

তিনি আরও বলেন, সিরাজুল ইসলাম সুরুজের আত্মহত্যার ঘটনায়, তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য ঝিনাইদহের পুলিশ সুপারকে বলা হয়েছে।

এসএম/জেডএইচ/জেআইএম