দেশজুড়ে

‘যত আইন সব গরিবের উপর’

যশোর শহরের যানজট নিরসনে অবৈধ যানবাহন বন্ধ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালিয়েছে পৌরসভা ও ট্রাফিক বিভাগ। সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) শহরের দড়াটানা, হাসপাতাল মোড় ও মুজিব সড়কে এই অভিযান চালানো হয়। এ সময় অবৈধ অটোরিকশা ও ইজিবাইকের মোটর খুলে নেওয়া হয়। তবে হঠাৎ এমন অভিযানে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অটোরিকশার চালকরা।

জানা যায়, যশোর শহরের পালবাড়ি-দড়াটানা-মণিহার, দড়াটানা মোড় থেকে জেলখানা মোড় হয়ে খাজুরা স্ট্যান্ড পর্যন্ত ও শহরের দড়াটানা মোড় থেকে চাঁচড়া চেকপোস্ট মোড় পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে গড়ে তোলা অধিকাংশ বহুতল ভবনের সামনে নিজস্ব জায়গা নেই। তাদের নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থাও নেই। কারো কারো থাকলেও সেটি পর্যাপ্ত নয়। ফুটপাত দখল করেই চলছে পার্কিং ও দোকানপাট।

একইভাবে শহরের চিত্রা মোড় থেকে জজকোর্ট মোড় পর্যন্ত এমএম আলী রোড ও দড়াটানা মোড় থেকে কাঠেরপুল পর্যন্ত এইচএমএম রোড, কাপুড়িয়া পাট্টি রোডের দুই পাশের ফুটপাত দখল হয়ে গেছে। এতে যানজটে হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

রোববার জেলা আইনশৃংখলা কমিটির সভায় শহরের ফুটপাত বেদখল, অবৈধ যানবাহন ও যানজট নিরসনের অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণের একদিনের মধ্যেই সোমবার সকাল থেকে শহরের হাসপাতাল মোড়, দড়াটানা, জজকোর্ট মোড় ও মণিহার এলাকায় অবৈধ যানবাহন বন্ধে অভিযান চালানো হয়েছে।

তবে একদিনের নোটিশে হঠাৎ অভিযান পরিচালনা করায় বিপাকে পড়েন যাত্রী ও অটোরিকশা চালকরা। অনেকে ভাড়ায়চালিত অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নামেন। হঠাৎ অভিযানে অটোরিকশার মোটর খুলে নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

শহরের জিরোপয়েন্ট এলাকার বাসিন্দা কামরুল নামে এক অটোরিকশাচালক বলেন, আমি জানতাম অভিযান হবে। কিন্তু রোগী নিয়ে এসেছিলাম। হাসপাতালে রোগী নামিয়ে দিয়ে ফেরার পথে অভিযানে আমার অটোরিকশার মোটর খুলে নেওয়া হয়েছে।

খড়কি এলাকার অটোরিকশাচালক মিজানুর রহমান বলেন, গতকাল (রোববার) মাইকিং করেছে শুনেছি। কিন্তু হঠাৎ করেই এমন অভিযান হবে বুঝতে পারিনি। আমার অটোরিকশার মোটর খুলে ভেঙে দিয়েছে। এখন আমি কীভাবে সংসার চালাবো বুঝতে পারছি না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অটোরিকশাচালক বলেন, যত আইন প্রয়োগ সব গরিবের উপর। যারা ফুটপাত দখল করে বড় বড় ভবন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেই।

পথচারী শামছুর রহমান বলেন, শুধু অবৈধ অটোরিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে যানজটমুক্ত হবে না। ফুটপথের অবৈধ দখলদারদেরকেও উচ্ছেদ করতে হবে। আর যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ করতে হবে। তা না করতে পারলে এমন অভিযানে কোনো সুফল আসবে না।

এ বিষয়ে যশোর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বিএম কামাল হোসেন বলেন, রোববার জেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক যশোর পৌরসভায় যানজট নিরসনের লক্ষ্যে আজ (সোমবার) অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ও পৌরসভার সমন্বয়ে অবৈধ অটোরিকশা, ইজিবাইক বন্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। আগামীতে যাতে পৌরবাসী নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

যশোর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান বলেন, যশোর শহরে অবৈধ ইজিবাইক ও অটোরিকশা বেড়ে গেছে। এরমধ্যে মোটরচালিত অটোরিকশা বেশি বেপরোয়া। চালকদের হাতে অটোরিকশার নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। জেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক এইসব অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করা হয়েছে। শহরকে যানজটমুক্ত রাখতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মিলন রহমান/এফএ/এমএস