আলেশা মার্ট, কিউকমসহ অর্ধশতাধিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে আটকে থাকা গ্রাহকের টাকা ফেরতসহ ১৪ দফা জানিয়েছে বাংলাদেশ ই-কমার্স কনজ্যুমারস সোসাইটি।
শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বাংলাদেশ ই-কমার্স কনজ্যুমারস সোসাইটি আয়োজিত মানববন্ধনে এসব দাবি জানানো হয়।
সংগঠনটির সহ-সভাপতি মো. রবিউল সানি বলেন, দুই বছর হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত সমস্যাগুলোর সমাধান করা হয়নি। এস্ক্রোতে টাকা আটকে আছে। সেটা এখন পর্যন্ত ছাড় হচ্ছে না। থলে ডটকমের নগদ গেটওয়ে এক কোটির মতো টাকা আটকে আছে, সেটা ছাড়া হয়নি। কিউকমের কিছু টাকা গেটওয়ে থেকে ছাড়া হচ্ছে না। এভাবে অনেক ই-কমার্সে ভুক্তভোগীদের আটকে থাকা টাকাও ছাড়া হচ্ছে না।
তিনি বলেন, আসলে সমস্যাটা কাদের। কেন টাকা ছাড়া হচ্ছে না? ৩৯টা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার- যারা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত, তারা কোথায়? তাদের কেন কোনোভাবে শনাক্ত করা যাচ্ছে না। এসব সমস্যা কীভাবে সমাধান হবে? মন্ত্রণালয় থেকে বলা হচ্ছে সব সমস্যা একবারে সমাধান করা হবে। কিন্তু আমরা এসবে আস্থা পাচ্ছি না। সব সমস্যা একবারে সমাধান করা সম্ভব না। দ্রুত সমস্যার সমাধান না করলে লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে।
সংগঠনের দাবিগুলো হলো- ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলাদিনের প্রদীপের ৩৬ জন গ্রাহকের ভোক্তা অধিকার থেকে ভেরিফাই করা লিস্টের টাকা অতিদ্রুত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা, গ্রাহক সুরক্ষায় এস্ক্রো সিস্টেম অটোমেশন ও ডিজিটালাইজেশন করা ও অনতিবিলম্বে গ্রাহকদের ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা, আনন্দের বাজার, আদিয়ান মার্ট, জিওফি, ই-বিপনী কম, ইনিডস বামাকা, আলিফ ওয়ার্ল্ডসহ ৩৯টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার যারা এখনো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বা যোগাযোগ করেও গ্রাহকদের ঢাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেননি, সেসব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা। এরপর বিচারের মাধ্যমে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
এছাড়া আলেশা মার্টের গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা, কিউকমের আটকে থাকা গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়া, অভিযুক্ত ৩৯টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতারিত গ্রাহকদের পেমেন্ট করা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফ্রিজ অবস্থায় আটকে থাকা টাকা গ্রাহকদের ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা, ই-অরেঞ্জ শপের পরিচালনা বোর্ডের সদস্য কারারুদ্ধ আমানুল্লাহ, সোনিয়া মেহেজাবিন ও মাসুকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে গেটওয়েতে আটকে থাকা ৩৪ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা এবং বিদেশে পলাতক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারদের দেশে ফিরিয়ে আনা।
এসএম/কেএসআর/এএসএম