জাতীয়

দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি

১৩ দিনের ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর সফর শেষে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শনিবার (১৬ সেপেটম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে বিমানের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে (বিজি-৫৮৫) ঢাকায় অবতরণ করেন তিনি। উড়োজাহাজটি সিঙ্গাপুরের সময় বিকেল ৪টা ২২ মিনিটে চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

বিমানবন্দরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, ডিপ্লোম্যাটিক কোরের ডিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত, তিন বাহিনী প্রধান এবং পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতি, তার স্ত্রী ও সফরসঙ্গীদের স্বাগত জানান।

গত ৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে জাকার্তার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন রাষ্ট্রপতি। ৮ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা থেকে সিঙ্গাপুর যান তিনি। ইন্দোনেশিয়ায় ৫-৭ সেপ্টেম্বর ৪৩তম ‘আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলন’, ১৮তম ‘পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলন’ এবং সাইডলাইনে অন্যান্য কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন।

আরও পড়ুন: জাকার্তায় রাষ্ট্রপতিকে লালগালিচা অভ্যর্থনা

রাষ্ট্রপতি, তার স্ত্রীসহ ৫ সেপ্টেম্বর সকালে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অটিজম ও নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারস বিষয়ক বাংলাদেশের জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনও সেখানে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ছিলেন।

৪৩তম আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসিয়ান দেশগুলোর ১০টি সাংগঠনিক নেতা এবং কিছু রাষ্ট্রীয় নেতা, রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানগণসহ অংশীদার দেশগুলোও এতে অংশ নেয়। আয়োজক দেশ ইন্দোনেশিয়া জাকার্তা আসিয়ান সম্মেলনের জন্য ২৭জন বিশ্বনেতা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকদের আমন্ত্রণ জানায়।

রাষ্ট্রপতি ৬ সেপ্টেম্বর তার ইন্দোনেশিয়ান সমকক্ষ জোকো উইডোডো এবং ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) মহাসচিব ড. সালমান আল ফারিসির সঙ্গে আলাদা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেছেন। শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ১৮তম ‘পূর্ব এশিয়া’ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন এবং ৭ সেপ্টেম্বর আমন্ত্রিত অতিথির হিসেবে ভাষণ দেন।

আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ায় আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকটের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন, আসিয়ানের বিভিন্ন বিষয় উত্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সাত বছর আগে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১.২ মিলিয়ন মিয়ানমারের নাগরিককে প্রত্যাবাসনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ এখন নানামুখী সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বিশ্বনেতাদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

এদিকে অনুষ্ঠানের ফাঁকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তারা হলেন- জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ, ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন চিন এবং লাও পিপলস ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক পার্টির প্রধানমন্ত্রী সোনেক্সে সিফানডোন।

বিএ